সুন্দর সুস্থ চুল কে না চায়! চুল মানুষের চেহারার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। আর সুন্দর ঝলমলে চুল সেই সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। এই সময়ে চুল দ্রুত ঘেমে যায়। বাইরের ধুলোবালি লেগে চুল ময়লা হয়ে পড়ে। চুল পড়ে যায়। রোদে আর গরমে চুল রুক্ষ ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে আপনাকে নিতে হবে সামান্য যত্ন। একটু সচেতন হয়ে কিছুটা সময় নিয়ে চুলের সঠিক যত্ন নিন। পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি বাড়তি কিছু কাজ আপনার চুলকে করে তুলবে আকর্ষণীয় ও ঝলমলে। চুলের সঠিক যত্ন নিয়ে লিখেছেন নওশিন শর্মিলী
চুল সুস্থ রাখতে সপ্তাহে একদিন অন্তত ডিমের কুসুমের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে পুরো চুলে লাগান। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিন। চাইলে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসেজ করতে পারেন। ঘণ্টাখানেক রেখে শ্যাম্পু করে নিন। এতে চুল পড়া কমবে। চুল ঝলমলে করতে আপনাকে একটু সময় দিতে হবে। এজন্য আমলা, শিকাকাই, মেথি ও রিঠা গুঁড়া টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। চুলের গোড়াসহ পুরো চুলে লাগান। আমলকি ও জবাফুল নারকেল তেলে ফুটিয়ে বোতলে ভরে রাখুন। শ্যাম্পু করার আগে চুলে ম্যাসেজ করুন। এভাবে কয়েক সপ্তাহ ব্যবহারে আপনার চুলের সৌন্দর্য বেড়ে যাবে। গরমে চুলের গোড়া ঘেমে যায়। পাশাপাশি খুশকির সমস্যা তৈরি হয়। এজন্য সপ্তাহে একদিন নারকেল তেল হালকা গরম করে মাথায় লাগান। তারপর হালকা গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথায় জড়িয়ে ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। এতে খুশকি কমে যাবে। লেবুর রস খুশকি রোধে উপকারী। নারকেল তেলে লেবুর রস মিশিয়ে মাথার তালুতে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পরদিন শ্যাম্পু করুন। শ্যাম্পু করার পর এক মগ পানিতে লেবুর রস দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এতে যেমন চুলের খুশকি কমে যাবে, তেমনি চুল ঝকঝকে ও হালকা হবে। এসবের পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই বাজারের খুশকি রোধক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। অনেকের ধারণা শ্যাম্পু করলে চুলের ক্ষতি হয়। আসলে শ্যাম্পু করলে চুল পরিষ্কার থাকে। পরিষ্কার চুল সুস্থ চুলের প্রাণ। তাই সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন শ্যাম্পু করতে হবে। এছাড়া সুস্থ রাখতে চুল ধোয়ার আগে পরে আপনাকে কিছু টিপস মেনে চলতে হবে। চুল ধোয়ার এক ঘণ্টা আগে নারকেল তেল দিয়ে ম্যাসেজ করুন। এতে চুল পুষ্টি পাবে। চুল অবশ্যই ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুতে হবে। কুসুম গরম কিংবা গরম পানিতে চুল ধোয়া হলে চুলের সহজাত তেল নষ্ট হয়ে যায় এবং চুল রুক্ষ হয়ে পড়ে। কখনো সরাসরি শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত নয়। অল্প পানির সঙ্গে শ্যাম্পু মিশিয়ে মাথায় ব্যবহার করুন। ভেজা চুল কোনো অবস্থাতেই আঁচড়ানো উচিত নয়। ভেজা চুলে চিরুনির ঘর্ষণে চুলের আগা ফাটা সমস্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় চুল ভাঙার পরিমাণ। চুল ধুয়ে এলে অনেকে মাথায় তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখে। এই কাজটি একেবারেই করা যাবে না। কারণ এতে চুলের গোড়া গরম হতে থাকবে এবং চুল পড়ে যাওয়ার হার বেড়ে যাবে। পাখার নিচে চুল শুকিয়ে নিতে হবে। বাহ্যিক এইসব কাজের সঙ্গে আপনাকে অভ্যন্তরীণভাবে চুল সুস্থ রাখার কাজ করতে হবে। শাকসবজি আর পানি বেশি করে খেলে চুলে পুষ্টি নিশ্চিত হয়। আর চুল সুন্দর রাখতে মনের দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন। দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমাবেন না। এটা চুল পড়ার একটি অন্যতম কারণ। নিয়মিত চুল মোটা কাঁটার চিরুনি দিয়ে আঁচড়াতে হবে। চুল শক্ত করে বাঁধা যাবে না। চুলের গোড়ায় যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে এমনভাবে চুল বাঁধতে হবে। সময়মতো সঠিক যত্ন নিলে আপনার চুল হয়ে উঠবে আকর্ষণীয়।
মডেল তমা মির্জা