কেমন আছে সমাজের মধ্যবিত্তরা

করোনার থাবায় বিধ্বস্ত পুরো বিশ্ব। করোনায় বিশ্ববাসীর টনক নড়েছে। অনেক বড় পরাক্রমশালী দেশেরও ভীত কেঁপে উঠেছে। জনবহুল শহর, বড় বড় রেস্তোরাঁ নিমেষেই যেন সব অচল। লকডাউন নামক বেড়াজালে যেন সবাই আবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশ্বব্যাংক আর গবেষকরা মধ্যবিত্তের একটা চেহারা দাঁড় করিয়েছেন আয় অথবা ক্রয়ক্ষমতা দিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশে এই করোনায় ঢাকা শহরের মধ্যবিত্ত চেনা যাচ্ছে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে গ্রামে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। কারণ, মধ্যবিত্ত ত্রাণের লাইনে দাঁড়াতে পারেন না। অভাবের কথা মুখ ফুটে বলতেও পারেন না। মধ্যবিত্তের অবস্থান মাঝখানে। তাই না পারে নিচে নামতে, না পারে ওপরে উঠতে। এই করোনাকালে তাই হাঁসফাঁস করছে মধ্যবিত্ত। এখন আমরা যাদের দেখছি, তারা সংজ্ঞায়িত হয়েছে মধ্যবিত্তের প্রথম ধাপ হিসেবে। তবে এই করোনা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আরো পরের ধাপেও আঁচ লাগবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা জরিপ অনুযায়ী করোনার আগে বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২০.৫ ভাগ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। আর চরম দরিদ্র ছিল ১০ ভাগ।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, একজনের দৈনিক আয় এক ডলার ৯০ সেন্ট হলে ঐ ব্যক্তিকে দরিদ্র  ধরা হয় না। এর নিচে হলে দরিদ্র। এখন মধ্যবিত্তের আয়সীমা কত? এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বলছে, এক ব্যক্তির ক্রয়ক্ষমতা (পিপিপি) যদি প্রতিদিন দুই মার্কিন ডলার থেকে ২০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হয়, তাহলে তাকে মধ্যবিত্ত বলা যায়। এই হিসেবে তারা বলছে, বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত হলো ৩ কোটি ৭ লাখ। বিশ্বব্যাংকের মধ্যবিত্তের আয়ের হিসাবটি একটু বেশি। যাদের প্রতিদিন আয় ১০ থেকে ৫০ ডলার, তারা মধ্যবিত্ত।

তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুই থেকে চার ডলার প্রতিদিনের আয় হলেই মধ্যবিত্ত। সেই হিসাবে যার মাসিক আয় ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা সে মধ্যবিত্ত। এটা বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৩০ ভাগ। ১৬ কোটি মানুষের হিসাবে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪ কোটি ৮০ লাখ।

বিআইডিএসের সাম্প্রতিক জরিপে বলা হচ্ছে, করোনায় ১ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে, দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। তাই এখন দেশে গরিব মানুষের সংখ্যা ৫ কোটির বেশি।

n লেখক : শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়