মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও দরিদ্র কোটায় ভর্তি নিয়ে লুকোচুরি!

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং ৩ শতাংশ অসচ্ছল দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানদের বিনা বেতনে ভর্তি নিয়ে লুকোচুরি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ট্রাস্টি বোর্ড নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের সন্তানকে দরিদ্র দেখিয়ে বিনা বেতনে পড়াচ্ছে। আবার কোথাও বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা নিজস্ব শর্ত জুড়ে নিয়ে তথ্য লুকিয়ে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করছে, অন্যদিকে আইনও অমান্য করছে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ই এই আইন লঙ্ঘন করছে। বিনা বেতনে পড়ানোর ক্ষেত্রে আইন না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউজিসি।

রাজধানীর নামি দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নানাভাবে হয়রানি করছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর সোবহানবাগের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের বঞ্চিত করার অভিযোগ কমিশনে জমা পড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব নীতিমালা করে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় ৩ দশমিক ৫ জিপিএ পাওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর কম জিপিএ পেলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে বিনা বেতনে পড়ানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের বিনা বেতনে পড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের নিজস্ব নীতিমালা  বেআইনি বলে জানিয়েছে ইউজিসি।  

ইউজিসির এক কর্মকর্তা বলেন, এভাবে সেমিস্টারে ৩ দশমিক ৫ না পাওয়ার কারণে অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ানোর সুযোগ না দিতেই নিজেদের খেয়াল খুশিমতো নীতিমালা তৈরি করে                রেখেছে তারা। এসব বিষয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগের স্তূপ জমা পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে।

ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভে মোট শিক্ষার্থী ৪ হাজার ৯৬৫। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পড়ছে ৫৭ জন এবং দরিদ্র ও মেধাবী পরিবারের সন্তান ১৪৮ জন। যারা বিনা বেতনে পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।  প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে মোট শিক্ষার্থী ৬ হাজার ৮৬২ জন। এর মধ্যে ৩৩ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং ৪৯ জন দরিদ্র ও মেধাবী।  গ্রীণ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে মোট শিক্ষার্থী ৪ হাজার ৮০ জন। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ৬৯ এবং দরিদ্র ও মেধাবী ৯৩ জন বিনা বেতনে পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ীও শর্ত পূরণ হচ্ছে না।

রাজধানীর বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৫ হাজার ২৪২ জন। এর মধ্যে মাত্র ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং দরিদ্র ও মেধাবী ১৪ জন, যারা বিনা বেতনে পড়ছে বলে দাবি করা হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আবেদনকারী কম থাকায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম। 

ইউজিসির নির্দেশনা : গতকাল ইউজিসি এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতকরা ৩ ভাগ আসন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং শতকরা ৩ ভাগ আসন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য সংরক্ষণপূর্বক এসব শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে  বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদান করতে হবে। এতে আরো বলা হয়, কমিশন লক্ষ করছে বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিনা বেতনে  অধ্যয়নের সুযোগ প্রদান করছে না এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতিমালা করছে যা আইনের চরম ব্যত্যয়। এ ক্ষেত্রে  আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউজিসি।