করোনায় আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ে ধস

করোনার থাবায় অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে প্রভাব পড়েছে আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ও। দীর্ঘ চার মাস হোটেল বন্ধ থাকায় লাখ লাখ টাকা বাড়িভাড়া বকেয়া পড়েছে তাদের। যার কারণে অনেকে ছেড়েছেন এ ব্যবসা। আবার অনেকে লোকসান নিয়ে হোটেল চালু করলেও পাচ্ছেন না পর্যাপ্ত কাস্টমার। এ সংকটে হোটেলের স্টাফরাও বেতন না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মার্চের শেষের দিক থেকে পুরো জুন পর্যন্ত বন্ধ ছিল আবাসিক হোটেল। রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রীদের ঘিরে এখানে প্রায় ৩৪টি হোটেল রয়েছে। বিদেশগামী যাত্রীদের নিয়ে সবসময় জমজমাট থাকে তাদের ব্যবসা। কিন্তু করোনায় পরিস্থিতি উলটে গেছে। আন্তর্জাতিক রুটে এখনো বিমান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় কাস্টমার পাচ্ছে না তারা।

এয়ারপোর্ট এলাকার ‘থ্রি স্টার’ হোটেলের মালিক রফিকুল ইসলাম আবু শাহ। ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ভাড়া দিতেন পুরো হোটেলের। গত মার্চ মাস থেকে জুলাই মাসের ২ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ছিল তার হোটেল। কিন্তু এই চার মাসের হোটেল ভাড়া ও বিদ্যুত্ বিল, স্টাফদের খরচ দিতে পারছেন না তিনি। এত টাকা কীভাবে তিনি পরিশোধ করবেন সেই হিসাব তার জানা নেই। এখন বাড়ির মালিক ভাড়া মওকুফ অথবা ছাড় না দিলে তিনি পথে বসবেন বলে জানান। গত জুলাইয়ের ২ তারিখে হোটেল খুললেও পাচ্ছেন না কাস্টমার। থ্রি স্টার হোটেলে রয়েছে মোট ৩২টি সিট। যেখানে করোনা না থাকলে         প্রতিদিন প্রায় ২০টির ওপরে সিটে কাস্টমার থাকত। বর্তমানে সারা দিনেও একটি বা দুটি সিটেও লোক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান হোটেলের মালিক। তিনি বলেন, আমাদের চার মাসের ভাড়া বাকি। আমরা ‘চোখে অন্ধকার’ দেখছি। ভবন মালিকরা যদি বাড়ি ভাড়ায় ছাড় না দেন তাহলে পথে বসতে হবে।

একই এলাকার মক্কা হোটেলের মালিক মো. সালাহউদ্দিন। তার হোটেলে তিনি প্রতি মাসে ভাড়া দেন প্রায় ২ লাখ টাকা। হোটেল বন্ধ থাকায় ভাড়া বাকি পড়ে গেছে। আলাপকালে একই অবস্থার কথা জানিয়েছেন আরো একাধিক হোটেল মালিক। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তারা এখন হোটেল পরিচালনা করছেন বলে জানান। তবুও পরিস্থিতির উন্নতি নেই।