গণ অসন্তোষের মুখে লেবানন সরকারের পদত্যাগ

বৈরুত বন্দরে মঙ্গলবারের ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই শতাধিক নিহতের পর গণ অসন্তোষের মুখে পদত্যাগ করেছে লেবানন সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান ডিয়াব গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। মন্ত্রিসভার তিনজন সদস্য আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু গোটা মন্ত্রিসভার পদত্যাগের জন্য চাপ বাড়ছিল। অনেকেই লেবাননের নেতাদের বিরুদ্ধে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে এই বিস্ফোরণের জন্য তাদের দায়ী করছে। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার

প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউন গতকালই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মন্ত্রিসভা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করবে বলে টেলিভিশন ভাষণে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী দু’জনেই বলেছিলেন, বৈরুত বন্দরে ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিরাপদ ব্যবস্থা না নিয়ে যেভাবে মজুত রাখা হয়েছিল তাতে আগুন ধরে গিয়েই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সরকার বৈরুতে মজুত করে রাখতে দিয়েছিল। এ কথা জানার পর লেবাননের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি মন্ত্রণালয় ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে এবং এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। রবিবার দ্বিতীয় দিনের মতো সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ব্যাপক অভিযান চালায়। সেনা সদস্যকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি করতে দেখা যায়। এমনকি পার্লামেন্টের স্পিকারের দেহরক্ষীও বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়েন। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বাইরেও বিক্ষোভ হয়েছে তার পদত্যাগের দাবিতে।

বিচারমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী এবং পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হাসান ডিয়াব গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকার আগেই অর্থমন্ত্রীও পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ বছরের দুর্নীতিপরায়ণ শাসকদের কারণেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের চেয়ে বড় হয়ে গেছে। সৃষ্টিকর্তা যেন লেবাননকে রক্ষা করে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে বৈরুত শহরের মেয়র মারওয়ান আবুদ জানান, বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ এবং ১১০ জন এখনো নিখোঁজ। তিনি বলেছেন, নিখোঁজদের মধ্যে বহু বিদেশি কর্মী এবং লরি চালক রয়েছেন। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষ উদ্ধারের কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে। কারণ জীবিত আর কাউকে পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা বলছেন ক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলারের বেশি।