দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় মির্জাপুরে বানভাসি অসহায় মানুষ 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দীর্ঘ স্থায়ী বন্যায় বানভাসি অসহায় পরিবারগুলো পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিশেষ করে বন্যায় আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বন্যার কিছু উন্নতি হলেও আঞ্চলিক সড়কগুলোর পানি না নামায় গ্রামের মানুষ বিপাকে। বন্যা দুর্গত এলাকার লোকজন কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার বন্যা কবলিত মির্জাপুর পৌরসভা, ফতেপুর, লতিফপুর, মহেড়া, জামুর্কি, বহুরিয়া, ভাওড়া, ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, বানাইল এবং আনাইতারা ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ আঞ্চলিক সড়ক পানির নিচে থাকায় সরাসরি যোগাযাগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। 

জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল এবং ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ বলেন, বানভাসি অসহায় পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বংশাই ও লৌহজং নদীর পানি কমছে খুব ধীর গতিতে। গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ। একদিকে বন্যার পানি অপর দিকে গত চার মাস ধরে করোনায় এলাকার মানুষ খুব বিপাকের মধ্যে রয়েছেন। প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না বলে অসহায় পরিবারগুলো অভিযোগ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার উপজেলার বংশাই নদীর ত্রিমোহন ব্রিজের কাছে গিয়ে দেখা গেছে, পুষ্টকামুরী পুর্বপাড়া, গাড়াইল, বাওয়ার কুমারজানিসহ কয়েকটি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছেন। অসহায়দের মধ্যে আংগুড়ি বেগম (৫৬) ও করিম মিয়া অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস ধরে তারা ব্রিজের উপর বাস করছেন। বন্যায় তাদের বাড়ি ঘরে কোমর পানি। এখন নতুন করে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ত্রাণ সহায়তাও পাচ্ছে না। খুব কষ্টে তাদের জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন থেকে যে পরিমান ত্রাণ পাওয়া গেছে তা বন্যার্তদের মাঝে সমহারে বিতরণ করা হচ্ছে।


ইত্তেফাক/আরকেজি