শিরোপাপ্রত্যাশী পিএসজি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ‘ফাইনাল এইট’-এ আজ মুখোমুখি হবে দারুণ ছন্দে থাকা আতালান্তার। ম্যাচটির আগে নেইমারদের চোখ রাঙানি দিচ্ছে ইতিহাসও। তবে চোট কাটিয়ে কিলিয়ান এমবাপের অনুশীলনে ফেরা কিছুটা হলেও উজ্জীবিত করছে ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের।
এ খেলাটির মধ্য দিয়ে পর্তুগালের লিসবনে শুরু হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ‘ফাইনাল এইট’ পর্ব। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ বাদ দিয়ে লিসবনে টুর্নামেন্ট আকারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রতিযোগিতার শেষ আট থেকে ফাইনালের খেলাগুলো।
কোচ থমাস টুখেলের অধীনে চলতি মৌসুমে দারুণ খেলা পিএসজি ইতিমধ্যেই ঘরোয়া ‘ট্রেবল’ নিশ্চিত করেছে। এর আগে অবশ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও দারুণ খেলেছে দলটি, রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে এ গ্রুপ থেকে বেরিয়ে এসেছিল গ্রুপসেরা হয়ে।
প্রতিপক্ষ আতালান্তাও কম যায় না একটুও। চলতি মৌসুমে হেরেছে মোটে তিন ম্যাচ। লিগ মৌসুমে করেছে মোট ৯৮ গোল, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এর চেয়ে বেশি গোল আছে কেবল ম্যানচেস্টার সিটির (১০২)। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক মৌসুমেই উঠে এসেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। এমন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে পিএসজির স্বস্তি ব্যক্তিগত কারণে আতালান্তা ফরোয়ার্ড জোসেপ ইলিসিচের অনুপস্থিতি। তবে ইতিহাস মোটেও স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না টুখেলের শিষ্যদের। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ছয় বার ইতালিয়ান প্রতিপক্ষের মুখোমুখি একটিতেও জয় নেই তাদের, চারটি হারের বিপরীতে ড্র করেছে মাত্র দুই ম্যাচে।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে প্রতিযোগিতাটির শেষ চারে সর্বশেষ বার যখন খেলেছিল পিএসজি, কিলিয়ান এমবাপের তখন জন্মই হয়নি, নেইমারের বয়স তখন মোটে দুই! এমনকি সেবারও ফাইনালের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ইতালিয়ান এক দলই। এসি মিলানের বিপক্ষে সেবার ৩-০ ব্যবধানে হেরেছিল তারা।
প্রতিপক্ষ আক্রমণভাগ চলতি মৌসুমে ১১৮ গোল করেছে সব প্রতিযোগিতায়। তার ওপর যোগ হয়েছে দলের ‘ইতালি জুজু’। সব পরিস্থিতি তাই এ ম্যাচে ইতালির বিখ্যাত রক্ষণ কৌশলেই আস্থা রাখতে বাধ্য করছে কোচ থমাস টুখেলকে, ‘রক্ষণে আমাদের দারুণ মনোযোগী হতে হবে, আর গোল না হজম করার জোর চেষ্টাটাই করতে হবে। কিন্তু আমরা জানি আতালান্তার বিপক্ষে কাজটা মোটেও সহজ হবে না।’ গ্রুপপর্বে পাঁচ গোল করে দলের অন্যতম সেরা পারফরমার এমবাপে চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরলেও ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ পরিস্থিতিতে দলটিকে আশা দেখাচ্ছে নেইমারের পরিসংখ্যান। ২০১৪-১৫ মৌসুমের পর থেকে নিজের শেষ ১৬ নকআউট ম্যাচে ১২ গোল করেছেন তিনি। এ সময়ে এর চেয়ে বেশি নকআউট গোল আছে কেবল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (৩৩), লিওনেল মেসি (১৬) আর রবার্ট লেভান্ডোভস্কির (১৪)। আজকের কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজির বড় ভরসা যে এই নেইমারই হবেন, তা বলাই বাহুল