কামারখন্দে অবিক্রীত গরু নিয়ে বিপাকে খামারিরা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে গরু অবিক্রীত থাকায় লোকসানের মুখে খামারিরা। গেল ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে উপজেলার খামারিরা গরু হূষ্টপুষ্ট করেন। স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, ক্রেতাসংকট ও আশানুরূপ দামে গরু বিক্রি করতে না পারায় অবিক্রিত রয়েছে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে হূষ্টপুষ্টকৃত ২৫ ভাগ গরু। তাছাড়া, বাকি ৭৫ ভাগ গরু অনেক অসচ্ছল খামারি ও পালনকারীরা লোকসান দিয়েই বিক্রি করেছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গেল ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে উপজেলায় ২ হাজার ৯৪০ জন খামারি ও পালনকারী ৮ হাজার ৮৭৩টি গরু হূষ্টপুষ্ট করেন। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা অবিক্রীত গরু আবার নতুন করে পালন করতে হচ্ছে খামারিদের।

এনডিপি অ্যাগ্রো প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক সবুজ আলী জানান, খামারে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ৫২টি গরু হূষ্টপুষ্ট করা হয়। গরু হাটে নেওয়া হলে ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় ৪টি গরু প্রায় ১ লাখ টাকা লোকসানে বিক্রি করেছি। খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা ৪৮টি গরু অবিক্রীত থাকায় খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।

বাজার ভদ্রঘাট গ্রামের গরু খামারি শরীফ জানান, আমার খামারের ১৭টি গরু এখনো বিক্রি করতে পারি নাই। প্রতি গরুতে ১০/১৫ হাজার টাকা লোকসানে তিনটি গরু বিক্রি করেছি। কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা অবিক্রীত এসব গরু অল্প সময়ের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হতে হবে। হায়দারপুর গ্রামের মুকুল অ্যাগ্রো ফার্মার পরিচালক দুলাল হোসেন জানান, এ বছর প্রায় ১ লাখ টাকা লোকসানে খামারের গরুগুলো বিক্রি করেছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই জানান, করোনার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ বছর পর্যাপ্ত ক্রেতা না আসায় গরুর চাহিদা ও বাজারদর দুটোই কমে যায়। ফলে অসছল গরু খামারি ও পালনকারীরা বাধ্য হয়ে লোকসানে গরু বিক্রি করেন। আবার অনেক সচ্ছল খামারি ও পালনকারীরা আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় গরু বিক্রি না করে ফেরত নিয়ে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ৪ শতাংশ সুদ হারে ব্যাংকঋণের জন্য সহায়তা করা হচ্ছে।