বাংলাদেশ হলো কৃষিপ্রধান দেশ। দেশের অধিকাংশ মানুষের প্রধান জীবিকা হচ্ছে কৃষি। কৃষির ওপর আমাদের দেশের অর্থনীতি অনেকটা নির্ভরশীল। কৃষির বর্তমান অবস্থা আগের তুলনায় অনেক ভালো। এই কৃষিকেই আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কৃষিক্ষেত্রের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। কৃষিতে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে। রপ্তানি আয় বাড়াতে দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে। বিদেশে চাহিদা আছে, এমন ধরনের পণ্য উত্পাদন করতে হবে। দেশের কুটিরশিল্পকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। গ্রামের দরিদ্র নারীদের কুটিরশিল্পে সম্পৃক্ত করে আকর্ষণীয় পণ্যসামগ্রী উত্পাদনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে করে গ্রামের দরিদ্র জনসাধারণের দারিদ্র্য দূূর হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। দেশে নতুন নতুন শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবাধ সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।
দেশে নতুন নতুন শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হলে বেকার সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে। দেশের মানুষের আয় রোজগার বেড়ে যাবে। বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। দেশে বিরাজমান দুর্নীতি নামক ব্যাধিটি দেশকে এগিয়ে যেতে দিচ্ছে না। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতি এমনভাবে গ্রাস করে আছে, এর থেকে বেরিয়ে আসা যাচ্ছে না। দেশে দেশে বিরাজমান দুর্নীতি যদি কঠোর হস্তে দমন করা যায়, সরকারের আয় অনেক বেড়ে যাবে। প্রশাসনে সত্, সাহসী ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে সুখী সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ার উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্প খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। দেশের চিকিত্সাসেবার মান নিয়ে অনেকেই সন্তুষ্ট না থাকায় উন্নত চিকিত্সার জন্য প্রচুর টাকা ব্যয় করে বিদেশে যান। এতে দেশের প্রচুর টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। এই অবস্থার অবসান হওয়া জরুরি। দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্মত হাসপাতাল স্থাপন করে উন্নত চিকিত্সার ব্যবস্থা করলে দেশের মানুষ টাকা খরচ করে বিদেশে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। এতে করে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব আর পড়বে না। তাই সরকারকে আবেদন করব এ ব্যাপারে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে। দেশের শিল্প খাত অনেক পিছিয়ে আছে। শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।
দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন করের বোঝা থেকে মুক্ত করতে হবে। এতে করে দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যে একটা গতি আসবে। দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যে গতি এলে অর্থনীতিতে সুফল আসবে। দেশের আয়ের বিভিন্ন উত্সগুলোর মধ্যে পর্যটনশিল্প একটি। পর্যটনশিল্পকে ঢেলে সাজানো হলে এবং বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হলে জাতীয় আয় অনেক বৃদ্ধি পাবে। এ ব্যাপারেও সরকারকে আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতির ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এসব উদ্যোগ গ্রহণ করলে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে। অর্থনৈতিক অনেক অগ্রগতি হবে। দেশ বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রগুলোর কাছাকাছি চলে যাবে।
লেখক :বিমা কর্মকর্তা