ফতুল্লার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত দুর্ভোগে এলাকাবাসী

গত কয়েক দিনে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে প্লাবিত হয়েছে নদী তীরবর্তী ফতুল্লার নিচু এলাকা। গত কয়েক দিনে ফতুল্লার তিনটি ইউনিয়নে পানির তোড়ে ভেঙে গেছে ঘরবাড়ি, সড়কসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে উত্তরে রয়েছে ডিএনডি বাঁধের ভেতরের এলাকা। সেখানে অল্প বৃষ্টি হলেই জমে পানি।

ডিএনডি বাঁধ ছাড়াও ফতুল্লার আরো কয়েকটি এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। সে কারণে অনেকে ডিএনডি এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ফতুল্লার লালপুর, কাঠেরপুল, পৌষাপুকুরপাড় ইসদাইর এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। তবে যারা জলাবদ্ধতার মধ্যেও বসবাস করছেন তাদের দুর্ভোগ চরমে। এর মধ্যে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী ও রোগীদের অবস্থা অবর্ণনীয়।

লালপুরের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এলাকায় মানুষ কমতে কমতে এখন শেষের দিকে। আমার মতো যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিল সবার ব্যবসা শেষ। এলাকায় মানুষ নাই ব্যবসা করব কিভাবে? যারা শুধু বাড়ি ভাড়া দিয়ে সংসার চালাতেন তারাও দুর্ভোগের শিকার।’

লালপুর প্রসঙ্গে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুত্ফর রহমান স্বপন বলেন, ‘এলাকায় যেহেতু কোনো খাল নাই তাই জলাবদ্ধতা নিরসন অসম্ভব। আমাদের কিছু করার নাই। পাশে যদিও বুড়িগঙ্গা নদী আছে কিন্তু সেখানে নিষ্কাশন ব্যবস্থাও সহজ বিষয় না। আমরা চেষ্টা করছি এলাকাটিকে ডিএনডি প্রজেক্টের মধ্যে নেওয়া যায় কি না।’ এরই মধ্যে প্লাবিত হয়ে পড়েছে ফতুল্লা থানার বক্তাবলী, কুতুবপুর এবং এনায়েতনগর ইউনিয়নের ১০টি ওয়ার্ডের বেশ কিছু এলাকা। মানবেতর জীবনযাপন করছে সহস্রাধিক পরিবার। আর নদীর পানির স্রোতে কাশিপুর ইউনিয়নের উত্তর নরসিংপুর ও বক্তাবলী ইউনিয়নের পূর্ব গোপালনগর এলাকার দুটি এক তলা পাকা বাড়ি ধসে গিয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর নরসিংপুর এলাকার আকলিমা বেগম বলেন, ‘ঘরের ভেতরে কোমর সমান পানি হয়েছে। টিউবয়েলগুলো পানিতে ডুবে গেছে। ঘরে থাকা চাল, ডাল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয়দ্রব্য ভেসে গেছে।’

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক বলেন, ‘গত বুধবার রাত ৮টা থেকে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীতে পানি বাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে পানির স্রোতে একটি সেমিপাকা ঘর ধসে পড়েছে। আরেকটি হেলে রয়েছে। আমরা ঐ সব পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি।’ তিনি বলেন, বন্যার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। যার জন্য বন্যার্তদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তাদের আশ্রয়ের জন্য একটি প্রাইমারি স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে। নাহিদা বারিক বলেন, করোনা ভাইরাস শেষ হয়ে যায়নি। এখনো আমরা মানুষকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। কর্মহীন মানুষদের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। আশা করি, বন্যা পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে পারব। ইতিমধ্যেই আমরা ত্রাণ দিতে শুরু করেছি।’