বৈরুত বিস্ফোরণ

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল

লেবাননের রাজধানী বৈরুত বন্দরের গুদামে থাকা ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের ব্যাপারে গত মাসেই নিরাপত্তা কর্মকর্তারা লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করেছিলেন। মজুত এই বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ কোনো কারণে বিস্ফোরিত হলে পুরো রাজধানী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন তারা। দুই সপ্তাহ পর তাদের আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণিত করে প্রবল বিস্ফোরণ বৈরুত বন্দরের বেশির ভাগ অংশকেই নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে, প্রাণ কেড়ে নিয়েছে অন্তত ২২০ জনের, আহত ছাড়িয়েছে ৬ হাজার। শহরটির প্রায় ৬ হাজার ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মিউনিসিপাল কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বন্দরে পড়ে থাকা বিস্ফোরক পদার্থ নিয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যে জুলাইয়েই লেবাননের নেতাদের সতর্ক করেছিলেন, সে সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি দেখেছে তারা। দেশটির ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও দুই সপ্তাহ আগেই মজুত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিয়ে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা অধিদপ্তর গত ২০ জুলাই প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন ও প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াবকে বন্দরে মজুত রাসায়নিক পদার্থের ব্যাপারে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিল। ঐ প্রতিবেদনের মধ্যে একটি চিঠিও ছিল।

প্রতিবেদনটি দেখলেও বিশেষ ঐ চিঠিতে কী লেখা ছিল, রয়টার্স তা জানতে পারেনি। তবে লেবাননের একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে জানুয়ারিতে শুরু হওয়া একটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের সংক্ষিপ্তসার ছিল, যাতে বন্দরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিকগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। ২০ জুলাইয়ের চিঠি নিয়ে প্রেসিডেন্ট আউন ও প্রধানমন্ত্রী দিয়াবের দপ্তরের মন্তব্য চাওয়া হলেও তাতেও সাড়া মেলেনি। এ প্রসঙ্গে লেবাননের প্রসিকিউটর জেনারেলেরও মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে এভাবে সতর্ক করার বিষয়টি সত্য হলে তা লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিকে আরো অগ্নিগর্ভ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা পর্যবেক্ষকদের। জন-অসন্তোষের মুখে সোমবার দিয়াব সরকার পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা শিগিগর মিটছে না বলেও ধারণা বিশ্লেষকদের। পদত্যাগ করলেও নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দিয়াব মন্ত্রিসভার সদস্যরাই ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বৈরুত বন্দরে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট পড়ে থাকার বিষয়টি অবগত ছিলেন বলে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট আউনও স্বীকার করে নিয়েছিলেন। এ বিষয়ে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে’ সুপ্রিম প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের মহাপরিচালককে নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলেও সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন তিনি। কেবল প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীকে জুলাইতে পাঠানো চিঠিই নয়, গত ছয় বছর ধরে বন্দর কর্তৃপক্ষ, শুল্ক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও দেশটির আদালতের কাছে একের পর এক আবেদন করে গুদামে পড়ে থাকা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটগুলো অপসারণের আদেশ চেয়েছিল। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনেও এসব আবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।