করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কারখানায় শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। অথচ এই সময়ে কারখানায় কাজ করতে এসে অনেক শ্রমিকের যদি তাপমাত্রা বেশি থাকে তবে ঐসব শ্রমিককে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেও তাদের কোনো দায়িত্ব কারখানা কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা। একইসঙ্গে গার্মেন্টস খাতসহ শিল্প খাতের শ্রমিকদের করোনায় আক্রান্তের প্রকাশিত সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। গতকাল বুধবার করোনায় শ্রমিকদের পোশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে (ওয়েবিনার) তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিল্স) আয়োজিত ঐ ওয়েবিনারে শ্রমিক প্রতিনিধি ছাড়াও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উন্নয়ন সহযোগী, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রতিনিধি এবং অর্থনীতিবিদরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) মহাসচিব চায়না রহমান বলেন, কোনো শ্রমিক কারখানায় প্রবেশ করার সময় তাপমাত্রা বেশি দেখলে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন, কিন্তু বাড়ি গিয়ে ঐ শ্রমিক কীভাবে জীবনযাপন করছেন, সেই খবর কারখানা কর্তৃপক্ষ রাখে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালু করার জন্য বলা হলেও বাস্তবে তা করছে না। চিন্তা একটাই—কীভাবে মুনাফা বাড়ানো যায়। অথচ শ্রমিকরা অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছেন। এ সময় আক্রান্ত হওয়া শ্রমিকের প্রকাশিত সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ৪৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন, কিন্তু পরীক্ষা করার মতো ব্যবস্থা নেই। ফলে কত জন আক্রান্ত হচ্ছেন, জানতে পারছি না।
বিলসের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই পরিস্থিতিতে কাজ করানোর ক্ষেত্রে কী কী সুবিধা দিতে হবে, এ বিষয়ে সরকারের একটি অধ্যাদেশ থাকা দরকার ছিল। তা না থাকায় এক্ষেত্রে বৈষম্য হচ্ছে। একশ্রেণির কর্মীরা কিছু সুবিধা পেলেও অন্যরা পাচ্ছেন না। শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়ে কিছু গাইডলাইন হয়েছে, কিন্তু আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকায় তা মানা হচ্ছে না। তিনি বলেন, যে দেশে অবাধ তথ্যপ্রবাহের সুযোগ কমে যায়, সেখানে দুর্যোগ মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়ে।
‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শ্রমিক, সম্মুখযোদ্ধা ও সেবা প্রদানকারীদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক ঐ ওয়েবিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ অ্যান্ড সায়েন্সের এ কে এম মাছুম উল আলম। মূলপ্রবন্ধে এ ধরনের মহামারি পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সুরক্ষায় আইনগত বিধান আরো যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের সঠিক সুরক্ষা দিতে হবে। শ্রমিকদের মধ্যে কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্র বিষয়ে আইএলওর নির্দেশনাবলি সরকার অনুসরণ করতে পারে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেভাবে বিমার আওতায় আনা হয়েছে, সেভাবে শ্রমিকদেরও বিমা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
বিলস চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান সিরাজের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তব্য দেন শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের (এসএনএফ) আহ্বায়ক ড. হামিদা হোসেন, বিলসের যুগ্মমহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, আইএলও আরএমজি প্রজেক্ট চিফ টেকনিক্যাল এডভাইজার জর্জ ফলার প্রমুখ।