কোভিড টিকা কি সত্যিই আসিল?

রাশিয়া কোভিডের সফল টিকা আবিষ্কার করিয়া ফেলিয়াছে—দেশটির প্রেসিডেন্ট পুতিনের এমন ঘোষণার পর নড়িয়াচড়িয়া বসিয়াছে সমগ্র বিশ্ব। অনেকের চক্ষেই সন্দেহ—সত্যিই কি রাশিয়া প্রথম করোনার কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কার করিয়া ফেলিল? কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্ভাব্য টিকার খসড়া তালিকায় তো রাশিয়ার এই টিকার নাম নাই! গত সোমবার পর্যন্ত হু-এর হালনাগাদকৃত এই খসড়া তালিকায় ১৬৭টি সম্ভাব্য টিকার নাম রহিয়াছে। ইহার মধ্যে ২৮টি টিকা মানবদেহে পরীক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে রহিয়াছে। এইগুলির মধ্যে সবচাইতে অধিক আলোচিত যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা। কে জানে না, বিশ্ব জুড়িয়া বিভিন্ন পরীক্ষাগারে টিকা তৈরির জোর প্রতিযোগিতাও শুরু হইয়াছে অনেক আগেই। টিকা উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে অর্থ সাহায্য করিতেছে বিভিন্ন দেশের সরকারও। সকলেরই লক্ষ্য, সকলের আগে একটি সফল টিকা বাজারে আনা। আর এই ডামাডোলের মধ্যে সকলকে অবাক করিয়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কিনা গত মঙ্গলবার জানাইলেন—তাহার দেশ করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কার করিয়া ফেলিয়াছে! আর তাহা রুশ সরকার অনুমোদনও প্রদান করিয়া ফেলিয়াছে! ইহার নামকরণ করা হইয়াছে সোভিয়েত কৃত্রিম উপগ্রহের নামে—স্পুটনিক-৫। রাশিয়া দ্ব্যর্থহীনভাবে দাবি করিয়াছে, এই টিকা নিরাপদ ও স্থিতিশীল। ইহা মানবদেহে প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাও গড়িয়া তুলিতে পারিয়াছে।

বিবিসির দেওয়া তথ্য হইতে জানা যায়, রাশিয়ার টিকাটি মূলত সর্দি-কাশি সৃষ্টিকারী অ্যাডেনোভাইরাস হইতে তৈরি করা হইয়াছে—যাহা করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধী সক্ষমতা দেখাইতে পারিতেছে। কিন্তু স্পুটনিক-৫-এর মধ্যে অনেকেই ‘প্যাঁচের গন্ধ’ খুঁজিতেছেন। অন্যান্য দেশের গবেষকেরা বলিতেছেন, যেই দ্রুততায় টিকাটি উদ্ভাবন করা হইয়াছে, তাহাতে ইহা নিশ্চিত যে রুশ গবেষকেরা তাড়াহুড়ো করিয়াছেন। এমনকি টিকাটি লইয়া কোনো পরীক্ষার ফলাফলও কোনো সুপরিচিত সাময়িকীতে প্রকাশিত হয় নাই। তবে যত যাহাই বলা হউক না কেন, রাশিয়া জানাইয়াছে, ইতিমধ্যে ২০টি দেশ তাহাদের তৈরি ‘স্পুটনিক-৫’ টিকাটি পাইতে ১০০ কোটি ডোজের অগ্রিম অর্ডার দিয়াছে। বিদেশি সহযোগীদের লইয়া আগামী এক বত্সরে তাহারা পাঁচটি দেশে ৫০ কোটি ডোজ টিকা তৈরি করিতে সক্ষম। এইদিকে, আসন্ন নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্বেই কার্যকর একটি টিকা বাজারে চালু করিতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘অপারেশন র্যাপ স্পিড’ নামে একটি কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়াছেন। ইহার আওতায় সকল মার্কিন নাগরিকের জন্য কোভিড-১৯-এর টিকা উত্পাদন ও বিতরণকাজ আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে সম্পন্ন করিবার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হইয়াছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো টিকা পাইতে মরিয়া ইউরোপও। টিকা প্রস্তুতকারী সংস্থা হিসাবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও সানোফি-জিএসকের সঙ্গে চুক্তি সই করিবার পাশাপাশি আগাম আলোচনা করিয়া রাখিয়াছে ইউরোপিয়ান কমিশন।

এই সকল প্রচেষ্টার মধ্যে আমাদের অবস্থান কোথায়? সরকারের পক্ষ হইতে বলা হইতেছে, টিকা যেইখান হইতে আগে পাওয়া যাইবে, সেইখান হইতেই লইতে হইবে। আমরাও মনে করি, পিছাইয়া থাকা চলিবে না। আশার কথা হইল, টিকা ক্রয়ের জন্য বাজেটে কিছু অর্থ বরাদ্দও রাখা হইয়াছে। এই বিশ্বের সচেতন দেশসমূহের মতো আমরাও কোভিডের করাল গ্রাস হইতে যথাশীঘ্র মুক্তি পাইতে চাই।