প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে ইতিহাসের গভীরতম মন্দায় পড়েছে যুক্তরাজ্য। গত এপ্রিল-জুনে তাদের অর্থনীতি ভয়াবহভাবে সংকুচিত হয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অর্থনীতির সূচকে এই মারাত্মক নিম্নগামীকে সরকারিভাবে মন্দা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গতকাল দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস জানিয়েছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) ২০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে গেছে। ১৯৫৫ সালে হিসাব শুরুর পর থেকে যুক্তরাজ্যে তিন মাসের ব্যবধানে জিডিপির এত বড় পতন আর কখনোই দেখা যায়নি। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যে জিডিপি হ্রাসের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। এরপরেই করোনা ভাইরাস মহামারির ধাক্কায় দেশব্যাপী লকডাউন জারি করে ব্রিটিশ সরকার। পরপর দুটি প্রান্তিকে জিডিপি সংকুচিত হলে কোনো দেশ অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছে বলে ধরা হয়। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, এবার জি৭-ভুক্ত যে কোনো দেশের তুলনায় বড় অর্থনৈতিক মন্দায় পড়েছে যুক্তরাজ্য। দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ, অর্থাত্ তাদের চেয়ে যুক্তরাজ্যের সংকোচন প্রায় দ্বিগুণ বেশি। অর্থনৈতিক সংকোচনের দিক থেকে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালির চেয়েও এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাজ্য। জি৭-এর বাকি দুই সদস্য কানাডা ও জাপান এখনো দ্বিতীয় প্রান্তিকের তথ্য প্রকাশ করেনি।
এবছর দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কমেছে রেকর্ড ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ, নির্মাণ খাতে কমেছে ৩৫ শতাংশ, উত্পাদন খাতে কমেছে অন্তত ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। লকডাউনের কারণে মানুষ ঘরে থাকতে বাধ্য হওয়ায় গৃহস্থালি ও ব্যাবসায়িক খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী রিশি সুনাক বলেছেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, কঠিন সময় সামনে। আজকের তথ্য নিশ্চিত করেছে, সেই কঠিন সময় এসে গেছে। ইতিমধ্যেই লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং দুঃখজনকভাবে আগামী মাসগুলোতে আরো অনেকেই হারাবেন। তবে সামনে আরো কঠিন অবস্থা আসলেও আমরা এটি পার হয়ে যাব। আমি জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারি যে, কেউই আশা বা সুযোগহারা হবেন না।’