টঙ্গীতে অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। বিরোধী দলে অবস্থানকালে রাজপথে যেসব নেতাকর্মী নিপীড়ন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বর্তমানে তারাই স্থানীয় রাজনীতির মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে কোণঠাসা হয়ে রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসাবাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
বিশেষ করে শীর্ষ পর্যায়ের তিন নেতার রেষারেষির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে নানা ফায়দা লুটে নিচ্ছে অনুপ্রবেশকারী চক্র। ভাগিয়ে নিয়েছে টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পদসহ দলীয় বিভিন্ন পদপদবি। কথা হয় টঙ্গীর এক সময়ের কারা নির্যাতিত নেতা বর্তমান টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, দলে কীভাবে এত অনুপ্রবেশকারী ঢুকে গেল বুঝতে পারলাম না। যাদের কোনো দিন দলের ক্রান্তিলগ্নে দেখিনি তারাই এখন দলীয় কার্যালয়ে বড় চেয়ারে বসে বক্তব্য দেয়। এই নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই কারো। কেউ দলের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কথা বললে তার ওপর মামলা, হামলার ঘটনা ঘটার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এলাকার শত শত দলীয় নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে টঙ্গীতে দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আয়োজিত গরুর হাট ইজারা দেওয়া হয় টঙ্গী থানা বিএনপির প্রয়াত সভাপতি শাহেন শাহ আলমের ছোট ভাই আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী মনি সরকারের নামে। এছাড়া জাতীয় পত্রিকায় প্রচারনা না করেই মৌখিকভাবে টঙ্গী বাজারের ইজারাও দেওয়া হয় তারই নামে। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ । টঙ্গী থানা যুবলীগের সভাপতি সাত্তার মোল্লা জানান, ‘দলে আমাদের মূল্যায়ন নাই। অনুপ্রবেশকারীদের কথায় দলের সবকিছু সিদ্ধান্ত হয়। টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের নেতা গাজীপুর নারী শিশু আদালতের পিপি সাজাহান জানান, আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকাকালে জাতীয় শ্রমিক নেতা ও গাজীপুর দুই আসনের তত্কালীন সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আমরা যখন টঙ্গী স্টেশন রোডে আন্দোলন করি, তখন বর্তমান অনুপ্রবেশকারী টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সরকার ওরফে মনি সরকার বিএনপির পক্ষে আমাদের ওপর হামলা চালায়। সেই হামলায় আমিসহ আওয়ামী লীগের ১৫/২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়।