অপরাধীর শাস্তি চান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ‘অপরাধ যে-ই করুক, তার বিচার হওয়া উচিত, আমি তার শাস্তি চাই। এ কারণেই দুদককে সহযোগিতা করতে দুদকের ডাকে সারা দিয়ে দুদকে এসেছি।’ তিনি বলেন, করোনাকালীন বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) ক্রয়সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সাবেক মহাপরিচালক হিসেবে আমি কী জানি, তার জন্য দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। আমি যা জানি, তা তাদের বিস্তারিত বলেছি।’ গতকাল বুধবার দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমি সত্, দক্ষ ও সফল কর্মকর্তা হিসেবে সারা জীবন কাজ করেছি। আমি লক্ষ করছিলাম, আমাকে নিয়ে অপপ্রচারের অপচেষ্টা শুরু হয়েছে, যা আমার জন্য অসম্মানজনক। তাই বিবেকতাড়িত হয়ে গত ২১ জুলাই আমি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করি।’

করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে নিম্নমানের মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ পাঁচ জনকে গতকাল বুধবার জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ডা. আবুল কালাম আজাদ ছাড়া অপর চার জন হলেন—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (ওএসডি) ডা. মো. আমিনুল হাসান, উপপরিচালক মো. ইউনুস আলী, মো. শফিউর রহমান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গবেষণা কর্মকর্তা ডা. মো. দিদারুল ইসলাম। দুদকের পরিচালক              মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এদিকে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও চিকিত্সার বিষয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তির বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে।

টানা পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যব্যবস্থার সব ক্ষেত্রে আমার পর্যাপ্ত জ্ঞান, অভিজ্ঞা ও কর্মদক্ষতা আছে। কোভিডের মতো মহাদুর্যোগে লাখ লাখ মানুষের যাতে প্রাণহানি না ঘটে, সে জন্য আমি আমার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও বিবেকবোধ থেকে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে কাজ করেছি।’

এই সাবেক মহাপরিচালক আরো বলেন, ‘আমি এটা বলে শেষ করতে চাই, আমি একজন কঠোর পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান, সত্, দক্ষ, সফল ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে সারা জীবন কাজ করেছি। আমি অহংকার, অহমিকামুক্ত। সরল ও সজ্জন ব্যক্তি।’

দুদক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরস্পর যোগসাজশে ‘অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে’ কোভিড-১৯-এর চিকিত্সার জন্য ‘নিম্নমানের’ মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কিনে বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগ এসেছে কমিশনের হাতে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধানে গত ১৫ জুন দুদকের কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন শিবলীকে প্রধান করে চার সদস্যের এই অনুসন্ধান টিম গঠন করে কমিশন। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) এক উপপরিচালকসহ তিন কর্মকর্তাকে গত ২০ জুলাই দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর গত ৬ অগাস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ পাঁচ জনকে তলব করে দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী ও শেখ মো. ফানাফিল্যা পৃথক তলবি নোটিশ পাটান। তলবের চিঠিতে ১২ ও ১৩ আগস্ট তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।

অন্যদিকে দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা স্বাক্ষরিত পত্রে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে আগামী ১৩ আগস্ট তলব করা হয়েছে। ঐ পত্রে বলা হয়, ঢাকার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ ও অন্যদের বিরুদ্ধে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করে করোনা সনদ দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকে চলমান সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাকে (আবুল কালাম আজাদ) তলব করা হয়েছে।