কক্সবাজারের মহেশখালীর বহুল আলোচিত আবদুস সাত্তার হত্যার ঘটনায় ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি হত্যা মামলার অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার সময় ২০১৭ সালে প্রদীপ কুমার দাশ মহেশখালী থানার ওসি ছিলেন। মামলাটি নিতে সে সময় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ছিল। পরে তা স্থগিত করতে পুলিশের পক্ষে করা আবেদন খারিজ হলেও নিজের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাটি নথিভুক্ত করেননি ওসি প্রদীপ।
সেই পুরোনো অভিযোগটি আমলে নিতে গতকাল বুধবার দুপুরে মহেশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্বাস উদ্দিনের আদালতে লিখিত অভিযোগটি করেছেন ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত আবদুস সাত্তারের স্ত্রী হামিদা আক্তার (৪০)। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বাদীর বক্তব্য শুনলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত (রিপোর্ট লেখাকালীন) কোনো আদেশ দেননি বলে জানিয়েছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম।
আদালতে করা অভিযোগে সাবেক ওসি প্রদীপ ছাড়াও পুলিশের পাঁচ সদস্য এসআই হারুনুর রশীদ, এসআই ইমাম হোসেন, এএসআই মনিরুল ইসলাম, এএসআই শাহেদুল ইসলাম ও এএসআই আজিম উদ্দিনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে ২৯ জনের মধ্যে প্রধান আসামি করা হয়েছে মহেশখালীর ফেরদৌস বাহিনীর প্রধান ফেরদৌসকে (৫৬)। তিনি মহেশখালীর হোয়ানকের মৃত নুরুল কবিরের ছেলে।
নিহত আবদুস সাত্তার হোয়ানক পূর্ব মাঝেরপাড়ার মৃত নুরুচ্ছফার ছেলে।
অভিযোগকারী হামিদা আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টার দিকে ফেরদৌস বাহিনীর সহায়তায় হোয়ানকের লম্বাশিয়া এলাকায় তার স্বামী আবদুস সাত্তারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। রিট পিটিশন নং-৭৭৯৩/১৭ মূলে ‘ট্রিট ফর এফআইআর’ হিসেবে গণ্য করতে আদেশ দেন বিচারক।
আদালত সূত্র জানায়, হামিদা বেগমের করা রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ৭ জুন আদেশ দেন। এতে বলা হয়, হামিদা বেগম এজাহার দাখিল করলে মহেশখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তা তাত্ক্ষণিক গ্রহণ করতে হবে। এ আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।
অন্যদিকে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র সচিবের (জননিরাপত্তা বিভাগ) পক্ষে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ১৩ মে আপিল বিভাগ আদেশ দেয়। এতে রুল ইস্যু না করে এজাহার গ্রহণ করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ঐ রিটটি মামলা হিসেবে নতুন করে শুনানি করতে বলা হয়।
এদিকে ঐ সময় হাইকোর্টে রিট পিটিশনকারী অ্যাডভোকেট রাশেদুল হক খোকন জানান, উচ্চ আদালত থানায় মামলাটি করার নির্দেশ দেন। কিন্তু পরে আইজিপির পক্ষ থেকে আদেশ স্থগিতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা স্থগিত করে উচ্চ আদালত।
বুধবার করা অভিযোগে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা হত্যার অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে আদালতে আবেদন জানিয়েছি। আদালত আমাদের ভাষ্য শুনেছে। সেই সময়ের (২০১৭ সালের) নথি পর্যালোচনা করছেন। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা গ্রহণ বা বাতিল কোনো বিষয়ে বিজ্ঞ আদালত আদেশ দেয়নি। আমাদের বিশ্বাস, ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমাদের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নিতে আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) নির্দেশনা দিবেন বিজ্ঞ বিচারক।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ বাহারছড়া চেকপোস্টে গাড়ি তল্লাশির নামে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এরপর থেকে টেকনাফ ও মহেশখালীতে ওসি প্রদীপের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ মামলা করতে আদালতে শরণাপন্ন হচ্ছে।