আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও বিজয় আসন্ন

সারা বিশ্ব আজ স্থবির, আধুনিক সভ্যতা এখন বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। বস্তুবাদী জীবন এখন অর্থহীন, করোনা ভাইরাসের নিষ্ঠুরতায় বিশ্ব আজ বাকহীন প্রতিটি মুহূর্তেই তাড়া করছে এক দুঃসহ আতঙ্ক। শত শত মানুষ আজ গৃহবন্দি। কোভিড-১৯ সারা বিশ্বকে আজ গ্রাস করে ফেলেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। প্রশ্ন জাগে, বিশ্বে এরকম ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হলো কেন? কোথা থেকে এলো এই অণুকণাসদৃশ ক্ষুদ্র জীবাণু? কেন আজ মৃত্যুর এই অন্তহীন মিছিল?

কোথায় আজ সেই পরাশক্তি? কোথায় তাদের বিধ্বংসী সমরাস্ত্র? আজ কোথায় তাদের ক্ষমতাধর মহাকাশ বিজয়ী বিজ্ঞানী? প্রবল শক্তিধর পরাশক্তি কেন আজ করোনার ছোবলে প্রকম্পিত? আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীকে কখনো ক্ষমা করেন না। কোরআনের ভাষায় এখন এর উত্তর খুঁজতে হবে। কোরআনের সুরা রুম-এর ৪১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ মানব সম্প্রদায়কে তাদের কৃতকর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা মন্দ কর্ম থেকে ফিরে আসে।’ এখন আমাদের চিন্তা করতে হবে, এই মন্দ কর্মগুলো কী? সেই ভুল ও মন্দ কর্মের জন্যই মানবসভ্যতা আজ বিপন্ন।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর গণতান্ত্রিক দেশ বলে যারা গর্ব করে; সামরিক শক্তিতে, অর্থনীতিতে আর প্রযুক্তিতে যারা অগ্রসরমান, তারা বিশ্বের বুকে আধিপত্য বিস্তারের জন্য একের পর এক আনাচার সৃষ্টি করেই চলেছে। বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত ও বিভেদ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মুসলিম রাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি রাষ্ট্রে খবরদারির অজুহাতে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মিথ্যা অজুহাতে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া প্রভৃতি দেশ দখল করে সম্পদ লুট করেছে। এসব দেশের নিরীহ মানুষ কাটাকাটি, হানাহানির মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করছে। মজলুম জনগণ ও এতিম শিশুরা না খেয়ে হাড্ডিসার হয়ে গেছে। ক্ষুধার্ত শিশুদের ক্রন্দনরোলে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছে। পৃথিবীর বুকে আধিপত্যবাদের এরূপ নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত আর কেউ সৃষ্টি করেনি। তাই আজ জালেমদের বিরুদ্ধে শাস্তিস্বরূপ আল্লাহর সৈনিক হিসেবে বিশ্বের বুকে কোভিড-১৯-এর আগমন ঘটেছে বলে অনেকে মনে করেন। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ কোনো উদ্ধত অংহকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা হাদিদ-২৩)। তিনি আরো বলেছেন, ‘সুতরাং, আমি তাদের ওপর আজাব পাঠিয়েছি আসমান থেকে তাদের অপকর্মের কারণে।’ (সুরা আরাফ-১৬২) হজরত মুসা (আ) যখন মিশর ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন, তখন তার পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে ফেরাউন লোহিত সাগরে ডুবে মরেছিল।

কোরআন শরিফ নাফরমান জাতির ধ্বংসের ইতিহাসে ভরপুর। আল্লাহ নুহ (আ)-এর কওমকে প্লাবন দ্বারা ধ্বংস করেন। আদ জাতিকে ধ্বংস করেন ঝড় ও তুফান দ্বারা আর সামুদ জাতিকে ধ্বংস করেন গৃহের নিচে চাপা দিয়ে। করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবলীলায় পর্যুদস্ত হয়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী আকাশের মালিকের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। এই মহাবিপদ থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় এসব অনাচারের জন্য কায়মনবাক্যে আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং নিজেদের অপকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া।

আমরা সভ্যতার নামে আজ অশ্লীলতায় নিমজ্জিত হয়েছি। নারী জাতিকে পণ্যসামগ্রীতে পরিণত করেছি। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার মাধ্যমে লাখ লাখ অবৈধ সন্তানের জন্ম হচ্ছে। আল্লাহর বিধিব্যবস্থাকে অমান্য করে সভ্যতার নামে উলঙ্গ বসবাসকে সমর্থন করে আজ আমরা ‘ন্যুডিস্ট’ কলোনি গড়ে তুলেছি। সমকামিতাকে বৈধতা দিয়েছি। সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে নারীকে জনসম্মুখে বিবস্ত্র করে প্রদর্শন করছি। টপলেস পোশাক পরিয়ে মুক্তবক্ষ নারীকে দিয়ে নৃত্য প্রদর্শন করাচ্ছি। এজন্য আল্লাহ পাক বলেছেন, ‘তোমাদের জীবনে যে বিপদ-আপদ ঘটে, তা তো তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল। (সুরা সুরা-৩০)।

পবিত্র কোরআনে কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতার বর্ণনায় বলা হয়েছে, মহাপ্রলয়ের দিনে মানুষ তার আপন ভাইবোন, বাবা-মা আর স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে পালিয়ে বেড়াবে। ঐ ভয়াবহ দিনে কেউ কারো সঙ্গে সম্পর্ক স্বীকার করবে না। মহাপ্রলয়ের সেই চিত্রের কিয়দাংশ আমরা করোনা ভাইরাসের বদৌলতে পৃথিবীতেই প্রত্যক্ষ করছি। আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘তোমাদের আগে বহু মানবগোষ্ঠীকে আমি ধ্বংস করেছি, যখন তারা সীমা অতিক্রম করেছিল (সুরা ইউনুস-১৩)। শিল্পবিপ্লবের পরবর্তীকালে মানবরচিত যত মতবাদ ও আদর্শ পৃথিবীর বুকে এসেছে, সেই সব মতবাদই আজ গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। পৃথিবীতে কালজয়ী আদর্শ হিসেবে একমাত্র ইসলামই স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত। তাই আগামী শতাব্দী হবে ইসলামের শতাব্দী আর নেতৃত্ব দেবেন যুগশ্রেষ্ঠ মহানায়ক ইমাম মাহাদি (আ)। বিশ্ব মানব সম্প্রদায় আজ তার শুভাগমনের প্রতীক্ষায়। এই মহা-সংকটকালে আমরা মহান সৃষ্টিকর্তার রহমত কামনা করি। নাছরুম মিন্নাল্লাহি ওয়া ফাতহুন কারিব। অর্থাত্ আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও বিজয় অত্যাসন্ন।

lলেখক :অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা