বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ঘাস ও খড় পচে যাওয়ায় রংপুরের আট উপজেলায় গরুর খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। বর্তমানে গোখাদ্য খড়সহ অন্যান্য খাদ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় খামারিরা দারুণ বেকায়দায় পড়েছেন। করোনার প্রভাবে এমনিতেই খামারিদের বেহাল অবস্থা, তার ওপর গোখাদ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে খামার বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন খামারিরা। হাটে খড় কিনতে আসা নিজপাড়া গ্রামের আশরাফুল, পূর্বচান্দঘাট গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, মুকুল, জহির জানান, ধানের খড়ের এত দাম যে গাভি পোষা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গংগা নারায়ণ গ্রামের গাভির খামারি জয়নাল ২ হাজার ধানের আঁটি (খড়) কিনেছেন ১৩ হাজার ৫০০ টাকায়। তিনি জানান, দাম যা-ই হোক তার খামারে ১৭টি গাভির খাবার তাকে কিনতেই হবে। তা না হলে গাভিগুলো বাঁচানো যাবে না।
রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহাজালাল খন্দকার জানান, জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ২ হাজার ৫০০ গাভির খামার রয়েছে। গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিদের বেশ অসুবিধা হচ্ছে। গাভি খামারিদের জন্য সরকারের পর্যাপ্ত প্রণোদনা প্রয়োজন।
সিরাজগঞ্জে গোখাদ্যের সংকট
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জে এ বছর কয়েক দফা বন্যায় গোখামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। খামারি সূত্রে জানা গেছে, এক আঁটি (১০০ মুঠা) খড় ৭০০/৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বছর বন্যায় জেলার ৮ হাজার ৫৬২ একর চারণভূমি তলিয়ে গেছে। এতে দুধের উত্পাদন কমে গেছে বলে খামারিরা জানান। শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের খামারি আফাজ উদ্দিন জানান, কয়েক মাস ধরে বন্যার পানিতে চারণভূমিগুলো ডুবে থাকায় গরুগুলো বাথানে নেওয়া যাচ্ছে না। আবার খাবারের দামও বৃদ্ধি পাওয়ায় যথেষ্ট পরিমাণ খাবার দিতে না পারায় দুধের উত্পাদন কমে গেছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, জেলায় মোট ৮ হাজার ৫৬২ একর গো-চারণভূমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার ঘাসের কাটিং লাগানো হবে। ইতিমধ্যেই সরকারিভাবে গবাদি পশুর দানাদার খাদ্যের জন্য ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে এবং বিতরণ শুরু হয়ে গেছে।