শেষ তিন মিনিটের জাদু, সেমিতে পিএসজি

ডেভিড বেকহ্যাম-জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচদের তারকাখচিত পিএসজি, ‘ইউরোপিয় প্রতিযোগিতা বিশেষজ্ঞ’ উনাই এমেরির পিএসজি যা পারেনি, সেটাই ২০১৯-২০ মৌসুমে এসে করে দেখাল থমাস টুখেলের পিএসজি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে আতালান্তার বিপক্ষে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ তিন মিনিটের ভেল্কিতে ২-১ ব্যবধানে জিতে ২৫ বছর পর সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে দলটি।

প্রতিপক্ষ আতালান্তা নামে খুব একটা পরিচিত না হলেও, চলতি মৌসুমের পারফরম্যান্স বিচারে ইউরোপের সবচেয়ে কার্যকরী দলগুলোর একটাই ছিল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১৮ গোল করা ইতালিয়ান দলটি তার প্রমাণ দিতে সময় নেয় ২৭ মিনিট। দলের মূল স্ট্রাইকার জোসেপ ইলিসিচের পরিবর্তে নামা মারিও পাসালিচ দলকে এগিয়ে দেন আধঘণ্টা না যেতেই।

এর আগে পরে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পিএসজিও পেয়েছিল। কিন্তু দুই বারই নেইমারের চেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

প্রথমার্ধে দারুণ আক্রমণাত্মক খেলা আতালান্তা দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে এল। ওদিকে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক পিএসজি ঘণ্টার কাটা পেরোবার পর কিলিয়ান এমবাপেকে পেয়ে হয়ে ওঠে আরো বিপজ্জনক। তবে সমতাসূচক গোলের দেখা যেন কিছুতেই মিলছিল না টুখেলের শিষ্যদের।

অবশেষে যখন মিলল, তখন আরো এক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ হতাশার খুব কাছাকাছিই চলে গিয়েছিল পিএসজি। যার কারিগর ২০১৬-১৭ মৌসুমে পিএসজির স্বপ্নের হন্তারক নেইমার। সেবার অন্তিম সময়ে দুই গোল করে আরেকটি করিয়ে ফরাসিদের বিদায় করে বার্সাকে নিয়ে গিয়েছিলেন কোয়ার্টার ফাইনালে।

এবার গোল করলেন না তিনি, ৯০ মিনিটে ব্রাজিল সতীর্থ মার্কিনিয়োসকে দিয়ে করালেন। গুনেগুনে ঠিক ১৪৯ সেকেন্ড পরে পিএসজির জয়সূচক গোলটাতেও ছিল তার অবদান। এরিক চোপো মোটিংয়ের গোলটার জোগান দেওয়ার আগে এমবাপে বলটা পেয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকার কাছ থেকেই।

২০১৬-১৭ মৌসুমে পিএসজির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্বপ্নের এপিটাফ রচনা করেছিলেন বার্সেলোনার হয়ে। দুই মৌসুম পর দলটা আবারো যখন অগ্রগামিতা হারিয়ে স্বপ্নভঙ্গের শিকার হয়, ডান পায়ের মেটাটার্সাল হাড় ভেঙে নেইমার তখন গ্যালারির দর্শক। এবার তিনি আর দর্শক নন, নন প্রতিপক্ষও। এমন কেউ যখন দলে থাকেন, দল নিয়ে কোচের দুশ্চিন্তা অনেকটাই হালকা হয়ে যায়, হয়েছে টুখেলেরও। জার্মান প্রতিক্রিয়ায় বললেন, ‘বাদ পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়নি, এটা বলব না। তবে আমি জানতাম প্রথম গোলটা পেলে দ্বিতীয়টার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না খুব।’ চোট কাটিয়ে এবার এমবাপেও ফিরেছেন মাঠে, নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সেমিফাইনালে ফিরবেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াও। দুয়ে দুয়ে চার মেলাতে পারলে এবারই তো অপেক্ষা শেষ হওয়ার কথা ‘পূর্ণশক্তির’ পিএসজির!