দীর্ঘ চার বছর পরে আবারও স্বামী হত্যার মামলাটি দাঁড় করাতে ব্যর্থ হলেন কক্সবাজারের মহেশখালীতে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আবদুস সাত্তারের স্ত্রী হামিদা আকতার (৪০)। ২০১৭ সালে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে এজাহার দায়ের করে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাতেও তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করাতে পারেননি তিনি। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ তখন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকায় নিজের বিরুদ্ধে মামলা এফআইআর করতে দেওয়ার নির্দেশনাটি আইনি গ্যাঁড়াকলে উচ্চ আদালতেই আটকে দেন।
গত বুধবার মহেশখালী থানার তত্কালীন ওসি প্রদীপ ও আরো পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে সাত্তার হত্যার অভিযোগ এনে নতুন একটি এজাহার দাখিল করেন হামিদা। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার মহেশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্বাস উদ্দীন এজাহারটি আমলে নিয়ে বক্তব্য শুনে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে খারিজ করে দেন। তবে এই হত্যার ঘটনায় চার বছর আগে পুলিশের দায়ের করা মামলাটি এএসপি মর্যাদার একজন সিআইডি কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট অনিষ্পত্তি অবস্থায় রয়েছে। তাই মামলাটি আমলে নিতে অপারগতা জানিয়েছেন বিচারক। হামিদা আক্তারের দায়েরকৃত ফৌজদারি দরখাস্তে মহেশখালীর ফেরদৌস বাহিনীর প্রধান ফেরদৌস, থানার তত্কালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
হামিদা আক্তার বলেন, প্রতিপক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তার স্বামীকে উঠিয়ে নিয়ে ঠান্ডামাথায় হত্যা করে ওসি প্রদীপ সিন্ডিকেট। এখন ওসি প্রদীপ কারাগারে থাকায় আশা করছিলাম নিম্ন আদালতে আমার স্বামী হত্যার অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে বিচারের পথে হাঁটতে পারব। কিন্তু আইনি গ্যাঁড়াকলে তা হলো না। যদি সুযোগ হয় উচ্চ আদালতে যাব।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ফেরদৌস বাহিনীর সহায়তায় হোয়ানকের লম্বাশিয়া এলাকায় হামিদার স্বামী হোয়ানক পূর্ব মাঝেরপাড়ার মৃত নুরুচ্ছফার ছেলে আবদুস সাত্তারকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়। হামিদা তার স্বামীকে লবণচাষি দাবি করলেও পুলিশ বলছে তিনি তালিকাভুক্ত অস্ত্র ব্যবসায়ী ছিলেন।