গভীর শ্রদ্ধা, অগাধ ভালোবাসা আর আদরমাখা একই মানুষের বহু নাম। ছোটবেলায় মা-বাবার আদরের ‘খোকা’; বন্ধু, রাজনৈতিক সহকর্মীদের ‘মুজিব ভাই’; কখনো কারো কাছে ‘শেখ সাহেব’; ১৯৬৯ সালের পর থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ আর দেশ স্বাধীনের পর আমাদের জাতির পিতা। দলীয় মোড়কের বাইরে প্রত্যেকের জন্যই অনুকরণীয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে সবার জন্যই দৃষ্টান্তস্বরূপ।
বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধু প্রতিশব্দের মতো। বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া স্বাধীন বাংলাদেশ কল্পনা করা যায় না। জীবনঘাতী করোনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্নীতিতে দেশ যখন জর্জরিত, বাঙালি জাতি তখন আবার একজন বিশ্বনন্দিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে প্রত্যাশা করছে। করোনায় কর্মহীন, বানভাসি সর্বস্বান্ত মানুষের মানবেতর জীবনযাপন অসহনীয়। নিজ উদ্যোগে দুস্থ এই মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে অনেকেই। তবে সরকারি ত্রাণ চুরির ঘটনাও কম নয়। এই পরিস্থিতিতে নিজের জিনিস অসহায় অসচ্ছলদের দিতে কার্পণ্য না করা বঙ্গবন্ধুর কথাই মনে পড়ে। ছোট্ট খোকা বৃষ্টির দিনে নিজের ছাতা, শীতে গায়ের চাদর অসহায় মানুষদের বিলিয়ে দিত। সন্তানের খাবারের জন্য মা চুল বিক্রি করছেন—এমন সংবাদ যখন দেখি তখন মনে পড়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি বাড়ি ঘুরে মুষ্টিভিক্ষা চাল সংগ্রহ করে গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার কথা। করোনায় কর্মহারা, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা হোক বঙ্গবন্ধু।
অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া বালক বঙ্গবন্ধু মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্কুলের ছাদ সংস্কার করে দিতে বলেন। নিজের অধিকার আদায়ের জন্য আমাদেরও হতে হবে বঙ্গবন্ধুর মতোই সাহসী। ছাত্র রাজনীতির অনন্য অনুপ্রেরণা বঙ্গবন্ধু। তাঁর বর্ণিল রাজনৈতিক জীবন, অদম্য নেতৃত্ব সবার জন্যই শিক্ষণীয়।
বঙ্গবন্ধু হোক মানুষের ন্যায়ের প্রেরণা, অধিকার আদায় আর অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহসিকতার দৃষ্টান্ত। রাজনীতিকদের কাছে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র পরিচালনার অতুলনীয় নেতৃত্ব আর সীমাহীন ত্যাগ প্রেরণাস্বরূপ।
করোনা, বন্যা, বৈষম্য, অন্যায় আর দুর্নীতিতে দিশাহীন দেশকে স্বাভাবিক করে তুলতে উদাহরণ হতে পারে বঙ্গবন্ধুর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করার গতি। বঙ্গবন্ধুর অপরিমেয় আত্মত্যাগ, গভীর দেশপ্রেম, নিরলস পরিশ্রম আর নেতৃত্বের গুণাবলি বর্তমান প্রজন্মের সব বয়সীদের কাছে অনুকরণীয়।
লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়