ফুলবাড়ীতে আড়াই মাসে বিদ্যুত্স্পৃষ্টে ছয় জনের মৃত্যু

ফুলবাড়ীতে গত আড়াই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিদ্যুত্স্পৃষ্টে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে গত ২৯ জুন সিলিং ফ্যানের সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুত্স্পৃষ্টে জুয়েল রানার (১৪) মৃত্যু হয়েছে, গত ৫ জুলাই রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে জহুরা বেগম (৫৪), গত ১৯ জুলাই বৈদ্যুতিক হাউজ ওয়ারিংয়ের কাজ করতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম (২৩), ৩০ জুলাই লোহার তারে কাপড় শুকাতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সপড়ুয়া শিক্ষার্থী শম্পা রানী পাল, গত ১২ আগস্ট বিকালে বাঁশ কাটতে গিয়ে অসাবধানতাবসত কাঁচা বাঁশটি মেইন তারে পড়ে বিদ্যুত্স্পৃষ্টে আব্দুল ছালাম (৪৫) এবং ৪ আগস্ট বাড়ির পাশে সেচ পাম্পের তার খুলতে গিয়ে অসাবধানতাবসত বিদ্যুত্স্পৃষ্টে মারা যায় ছামিউল ইসলাম (১৮)।

নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল হানিফ সরকার ও ফুলবাড়ী জছিমিয়া মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, বিদ্যুত্ বিভাগের প্রতিদিন মেইন লাইন চেক করা ও বিদ্যুতের লাইনের পাশে গাছ কেটে ফেলাসহ প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গিয়ে বিদ্যুত্ ব্যবহারের ওপর গ্রাহকদের জনসচেতনতামূলক দিক প্রদানে উঠান বৈঠক করতে হবে। সেই সঙ্গে গ্রাহকদের বাড়ির ওয়ারিংয়ের জন্য নিম্নমানের ইলেকট্রিকসামগ্রী ব্যবহার না করার পরামর্শ দিতে হবে। গ্রাহক সচেতন হলে বিদ্যুত্স্পৃষ্টে মৃত্যুর হার অনেকাংশে কমে আসবে। 

ফুলবাড়ী পল্লী বিদ্যুতের ইনচার্জ মোর্শেদ আলম জানান, প্রতিটি মৃত্যুর জন্য গ্রাহকরাই দায়ী। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক গ্রাহকদের সঠিকভাবে বিদ্যুত্ ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে এক থেকে দুই বার জনসচেতনতামূলক মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। সেই সঙ্গে সঠিকভাবে বিদ্যুত্ ব্যবহারে নির্দেশনামূলক লিফলেট বিতরণসহ প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় উঠানবৈঠক করি। গ্রাহকরা সচেতন হয়ে বিদ্যুত্ ব্যবহার করলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটবে না।