তরুণীর নাম খুশী বেগম। তার বন্ধু শাহিন, হান্নান, কাওসার, আরিফ ও খলিল। তাদের বাড়িও দেশের বিভিন্ন জেলায়। নানা অপরাধে জড়িয়ে ভোগ করেছে কারাবাস। আর সেখানেই পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সবাই মিলে গড়ে তোলে জাল টাকার কারখানা। গত দুই বছর ধরে জাল টাকার ব্যবসা ভালোই চলছিল। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে তারা ৫ কোটি জাল টাকা বাজারজাত করার পরিকল্পনা করেছিল। সে জন্য রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি অত্যাধুনিক ভবনের দুইটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে গড়ে তুলেছিল কারখানা। কিন্তু ঈদের আগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কঠোর নজরদারির কারণে তারা ঢাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। ফিরে আসে ঈদের পর। ধরে নিয়েছিল পুলিশ এ নিয়ে আর এগুবে না।
ডিবি পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানিয়েছে গ্রেফতারকৃত হান্নান, কাওসার, আরিফ, খলিল ও খুশী। গতকাল শুক্রবার বিকালে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাদের ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা করে ৫৭ লাখ জাল টাকা ও অন্তত ৬ কোটি জাল টাকা তৈরির সামগ্রী।
অভিযান পরিচালনাকারী ডিবির ডিসি (গুলশান) মশিউর রহমান বলেন, ২৫/২ পুরানা পল্টন লেনের একটি ভবনের পঞ্চম এবং ষষ্ঠতলা ভাড়া নিয়ে জাল টাকা প্রস্তুতকারী এই চক্রটি জাল টাকার কারখানা স্থাপন করে। এই কারখানার অর্থদাতা শাহিন একাধিক মামলার আসামি। ধরা পড়া অপর আসামিরাও আগে একাধিক মামলায় হাজতবাস করেছে।
তিনি বলেন, এই জাল টাকা তৈরির কারখানার অর্থদাতা শাহিন। তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। গ্রেফতারকৃত পাঁচ জনের দায়িত্ব একেক ধরনের। হান্নান জাল টাকা প্রিন্ট করে, জাল টাকার বিশেষ কাগজ তৈরি করে কাওসার, কারখানার ম্যানেজার আরিফ, আর বিভিন্ন জায়গায় জাল টাকা পৌঁছে দেয় ইব্রাহিম ও খুশী।
গোয়েন্দা পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, গত দেড় মাস ধরে তারা ঐ দুই ফ্ল্যাটে জাল টাকা উত্পাদন করছিল। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লাখ সর্বনিম্ন ৩ লাখ টাকা তারা তৈরি করত। তারা পাইকারিতে জাল ১ লাখ টাকা বিক্রি করত ৯ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকায়। আর পাইকারের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা কিনে নিয়ে সেগুলো ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মার্কেটে ছেড়ে দিত। এ ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আজ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।