চট্টগ্রাম মহানগরীর শপিংমল ও বিপণিবিতানগুলোতে এখনো ফাঁকা অবস্থা বিরাজ করছে। করোনায় সৃষ্ট বেচাকেনায় মন্দা কাটছে না। ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে বসে আছেন। কিন্তু ক্রেতার দেখা মিলছে না। বেচাকেনার অর্থ দিয়ে দোকান ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মেটানো যাচ্ছে না। ফলে লোকসানের ভারে অনেকেই দোকান বন্ধ করে দিচ্ছে। কাজ হারাচ্ছেন কর্মচারীরা। বেচাকেনায় মন্দায় ব্যাংক ঋণের দেনা পরিশোধ করতে পারছেন না তারা। পণ্য বিক্রি না হওয়ায় মূলধনের টাকা আটকা পড়ে রয়েছে। মূলধন সংকটে নতুন মালামাল আনতে পারছেন না। অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ব্যবসার পরিধি অনুযায়ী সরকারের কাছে প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ছোট-বড় মিলে হাজারো শপিংমল ও বিপণিবিতান রয়েছে। গত মাঝ রমজান মাস থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকার সীমিত পরিসরে দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছে। এরপর থেকে নগরীর মার্কেটগুলো খোলা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও ক্রেতারা তেমন একটা দোকানে যাচ্ছে না। ফলে দোকান খোলা রেখে তারা অলস সময় কাটাচ্ছে। আগে যেখানে দিনে লাখ টাকার বেচাকেনা হতো সেখানে বেশির ভাগ দিনে ৫ হাজার টাকার পণ্যও বিক্রি হচ্ছে না।
চট্টগ্রামে সবচেয়ে প্রাচীন ও অভিজাত বিপণি কেন্দ্র নিউ মার্কেট। এখানে সব দোকান ক্রেতাদের পদচারণায় সরব থাকে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। অভিজাত শাড়ির দোকান অদুদ ফ্যাশনের মালিক জামশেদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘ব্যবসার খাতিরে দোকান খোলা রাখতে হচ্ছে বলেই খোলা রাখছি। কিন্তু বেচাকেনা নেই। মাঝেমধ্যে গিয়ে দোকানে ঘুরে আসি। অনেকেই দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। কর্মচারীদের কাজ নেই।’
অভিজাত বিপণি কেন্দ্র মিমি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও শাড়ি বিতান কাঁকনের মালিক জাকির হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, দেনার বোঝা নিয়ে দোকানে বসে আছি। বেচাকেনা নেই। দিনে ৪/৫ হাজার টাকার মতো বিক্রি হচ্ছে। বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানাদি না হওয়ায় মানুষ কেনাকাটাও তেমন করছে না। গত রমজান মাসের জন্য আমরা তার এক মাস আগেই মালামাল সংগ্রহ করি। কিন্তু সেই পণ্য বিক্রি করতে না পারায় টাকা আটকা পড়ে গেছে। ফলে ব্যাংকের ঋণের কিস্তিও দিতে পারছি না। অনেক দোকানদার বিদ্যুত্ বিলের টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে পারছে না।’
নগরীর রিয়াজ উদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি জানে আলম বলেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের মতো পণ্য বেচাকেনা হচ্ছে। কাপড় ও প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানে ৬০ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে। ফলে প্রতি মাসে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অস্বাভাবিক মাত্রায় কমে গেছে।’