ফরিদপুর আওয়ামী লীগে বিতর্কিত পরিবহন ব্যবসায়ীর যোগদান

ফরিদপুরের আলোচিত, সমালোচিত পরিবহন ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান সিদ্দিকীর আওয়ামী লীগে যোগদান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজ ও অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে ফরিদপুর আওয়ামী লীগে সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনছেন, তখন এমন বিতর্কিতদের দলে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে তার সেই উদ্যোগকে ভণ্ডুল করার অপচেষ্টা হচ্ছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে ভাঙ্গায় উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলটিতে যোগ দেন কামরুল। মূলত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ গ্রুপের নেতাকর্মীদের হাতে ফুল দিয়ে তিনি দলে যোগ দেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী সোবাহান মুন্সি ও শরীফউদ্দিন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মামুনুর রহমান ও সম্পাদক শাহিন শেখ ছাড়াও আরো অনেকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কামরুল আওয়ামী লীগ নেতা রাজু, যুবলীগ নেতা বশির আহমেদ এবং শ্রমিক নেতা আমীর আলী হত্যা মামলাসহ ডজনখানেক মামলার আসামি ছিলেন। এছাড়াও চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার কারণে প্রায় দুই ডজন সাধারণ ডায়েরির তথ্য পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।

আরো জানা গেছে, মিঠু সাহা নামের একজনের গাড়ি ব্যবহার করে ফরিদপুর বাস মালিক সমিতির সদস্য হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন কামরুল। ঐ সময় ফরিদপুরের বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপরে চার বার তিনি এই পদে নির্বাচিত হন। সর্বশেষ নির্বাচিত হওয়ার পরে চাঁদাবাজি মামলায় পুলিশের হাতে আটক হলে সাধারণ বাস মালিকরা তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি শামসুল হক ভোলা মাস্টার ইত্তেফাককে বলেন, যাদের যোগদান করানো হলো তারা ফরিদপুরভিত্তিক রাজনীতি করেন। কামরুলের বাড়ি ভাঙ্গা বলে শুনেছি, কাজী জাফরউল্লাহ এটাকে ভিত্তি করে হয় তো তাদের যোগদান করিয়েছেন। তারা কোনো দিন ভাঙ্গাভিত্তিক রাজনীতি করেওনি আর করবেও না। ফরিদপুরে দীর্ঘদিন যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন তারা তাদের সাদরে গ্রহণ করবে কি করবে না সেটা জাফরউল্লাহ সাহেব বিবেচনায় রাখেননি। তাই মনে করি, এটি আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক কিছু হয়নি।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে কামরুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, আমি আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা যাচাই-বাছাই করা উচিত।