ফার্নিচার খাতের দেশীয় প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড ‘আখতার ফার্নিশার্স’ এর আবারও ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। প্রায় ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন ও মামলা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট আদায়সহ ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি ঢাকা ভ্যাট উত্তর কমিশনারেটকে মামলার প্রতিবেদন পাঠিয়েছে মূসক গোয়েন্দা। বারবার ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ায় আখতার ফার্নিশার্সকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাবসায়িক কার্যক্রমের প্রতি নজরদারি বৃদ্ধিরও সুপারিশ করা হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, আখতার ফার্নিশার্স ব্র্যান্ড হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মাসিক দাখিলপত্রে প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন এবং ভ্যাট চালান ছাড়াই পণ্য বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মূসক গোয়েন্দা এর আগে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে কাগজপত্র জব্দ করে। সেসময় প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করে। প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কিস্তির মাধ্যমে সেই ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়। সেই সুযোগও পুরো কাজে লাগাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি মূসক গোয়েন্দার একটি দল রাজধানীর বারিধারায় আখতার গ্রুপ ভবনে অভিযান চালিয়ে কাগজপত্র জব্দ করে। কাগজপত্র যাচাই করে ২৬ কোটি ৮৮ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪২ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়, যার ওপর দুই শতাংশ হারে সুদ ১২ কোটি ৭৪ লাখ ৫২ হাজার ২১২ টাকা। সুদসহ ভ্যাট ফাঁকি ৩৯ কোটি ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৬২ টাকা। পরে মামলা করা হয় (মামলা নং-৬৪)। মামলার প্রতিবেদনে বলা হয়, আখতার ফার্নিশার্সের উত্পাদিত আসবাবপত্র ভ্যাট চালান ব্যতীত বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে এনবিআর জানতে পারে। একই সঙ্গে বিক্রয়কেন্দ্র থেকেও ভ্যাট চালান ব্যতীত বিক্রি করা এবং তা গোপন দলিলে উল্লেখ রাখা হয়। বিক্রয় তথ্য সংরক্ষণ না করেই ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে। এর মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর, একই ভবনের বিক্রয়কেন্দ্রসহ আরো দুটি বিক্রয়কেন্দ্রে একসঙ্গে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ফাঁকির আলামত পাওয়ায় ভ্যাটের দলিলাদিসহ কাগজপত্র জব্দ করা হয়। জব্দ করা দলিলাদি ও প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কাগজপত্র যাচাই করে ফাঁকি উদ্ঘাটন করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে উত্পাদন পর্যায়ের ছয় শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের প্রমাণ থাকা সাপেক্ষে সরবরাহ পর্যায়ের অর্থাত্ ব্যবসায়ী পর্যায়ের চার শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়। অন্যথায় ১০ শতাংশ ভ্যাট আদায়যোগ্য হয়।