উপকথা

শেয়ালের বাড়ি

 

বনের রাজা সিংহ। সারা দিন তন্নতন্ন করে শিকার খুঁজে ভীষণ ক্ষুধার্ত আর বড্ডো হয়রান। দিনের আলো ফুরিয়ে গেছে। বনজুড়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এমন সময় ক’টা প্রাণীই আর বনে থাকে। সন্ধ্যার আগেই পালা করে ঘরে ফেরে সবাই। আচমকা বনরাজ এক ঢিবিতে একটি গর্ত দেখতে পায়। সেখানে সিংহ লুকিয়ে পড়ার বুদ্ধি আঁটে। নিশ্চয়ই কেউ রাতে গর্তে ফিরবে। যে ব্যাটাই গর্তে ঢুকবে তারই ঘাড় মটকাব, ভাবে সিংহরাজ। বেশ মজাদার রাতের খাবার হবে!

গর্তটা আসলে এক শেয়ালের বাড়ি। সারা বেলা বনে-বাদাড়ে ঘুরে রাতটা গর্তেই কাটায়। প্রায়-সন্ধ্যা। অন্য দিনের মতোই শেয়াল গর্তে ফেরে। গর্তে কারো সাড়া পেয়ে শেয়াল হুকা হুয়া করে বলে, ‘কেউ আছ!’ টুঁ শব্দটি নেই। ‘আশ্চর্য’ শেয়াল চেঁচায়—‘গর্ত, ঘটনা কী? ভারি যে চুপটি করে আছ। থাক, আজ রাতটা বরং অন্য গর্তেই কাটাব।’

গর্তে-লুকানো সিংহ ভাবে, ‘বেচারা গর্ত মিছামিছি ভয়ে কাবু। এখনই সাড়া না দিলে শিকার ফসকে যাবে।’ চেঁচিয়ে ওঠে সে, ‘সুপ্রভাত বন্ধু।’ সিংহের গর্জন গর্ত ছাড়িয়ে সারা বনে ছড়িয়ে পড়ে। চালাক শেয়াল তো মুচকি হেসে এক দৌড়ে বনের শেষ মাথায়। সিংহের বোকামিতে শেয়াল ভারি মজা পায়। আর বনের সব প্রাণী নিমিষেই হাওয়া।

বেচারা সিংহ সেই রাত না-খেয়েই কাটায়।

রূপান্তর : কুতুব আজাদ