দুর্ধর্ষ বায়ার্ন, যন্ত্রণাক্লিষ্ট বার্সা

আরো একটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ লজ্জা বার্সেলোনার, এবারেরটা সবচেয়ে বিস্মরণযোগ্য। চলতি মৌসুমে ফর্মের তুঙ্গে থাকা বায়ার্ন মিউনিখ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রীতিমতো ছেলেখেলা করল বার্সাকে নিয়ে। লিওনেল মেসিদের বিপক্ষে ৮-২ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়ে কাতালানদেরকে বায়ার্ন ‘উপহার’ দিয়েছে দলটির চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে হারটি।

শুক্রবার দিনটা যেন বার্সা শিবিরে কু গাইছিলো শুরুর আগ থেকেই। ম্যাচের দুই ঘণ্টা আগে কাতালুনিয়া থেকে খবর গেল, করোনাক্রান্ত হয়েছেন চোটের কারণে দলের বাইরে থাকা স্যামুয়েল উমতিতি। তৃতীয় মিনিটে ‘পুরনো শত্রু’ থমাস মুলারের গোলে বায়ার্নের গোল-উত্সবের শুরু।

তবে বায়ার্ন রক্ষণ যে একেবারে নিষ্কলুষ ছিল তা বলার জো-টি নেই মোটেও। কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের রক্ষণ উঁচুতে রাখার কৌশলকে ভুল প্রমাণ করে বার্সা উইংব্যাক জর্দি আলবার গতি। গোল হজমের চার মিনিট পর তার ক্রস ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়ান ডেভিড আলাবা, সমতায় ফেরে বার্সা। এরপর লুই সুয়ারেজও সুযোগ পেয়েছিলেন, তার চেষ্টা রুখেছেন বায়ার্ন অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়্যার। এর মিনিট দুয়েক পর মেসির শট লেগেছে গোলপোস্টে।

ম্যাচে বার্সার ‘সুখস্মৃতি’ কেবল ঐ পর্যন্তই। ২১ মিনিটে আবারও কাতালান রক্ষণের ভুল, বায়ার্ন এগিয়ে যায় ইভান পেরিসিচের লক্ষ্যভেদে। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি বায়ার্নকে। বিরতির আগেই সের্জ গেনাব্রি ও থমাস মুলারের গোলে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় ব্যাভারিয়ানরা।

দ্বিতীয়ার্ধে সুয়ারেজের গোল কিছুটা আশা জাগালেও পরক্ষণেই জশুয়া কিমিখের গোলে সে আশা মিলিয়ে যেতে সময় নেয়নি। শেষ দিকে ১৫ মিনিটের ‘ক্যামিও’ উপস্থিতিতে বার্সা থেকেই বায়ার্নে ধারে যাওয়া ফেলিপে কোটিনহো জোড়া গোল করে রবার্ট লেভান্ডোভস্কিকে দিয়ে আরো একটি করান। তাতে ইউরোপসেরার আসরে সবচেয়ে বাজে হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে কোচ কিকে সেতিয়েনের বার্সা।

বার্সার জন্য বিস্মরণযোগ্য হলেও এ স্মৃতি বায়ার্ন আগলে রাখবে বহুদিন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নকআউট পর্বে এক ম্যাচে যে এর চেয়ে বেশি গোল নেই আর কারো। ম্যাচসেরা থমার মুলার তবুও পা রাখছেন মাটিতে, আসল লক্ষ্য যে পূরণ হয়নি এখনো!

বললেন, ‘ম্যাচটা বিশেষ কিছু, এর অনুভূতি দারুণ। এই টুর্নামেন্টটা বিশেষ কিছু, আজকের জয়টা অনেক বড় একটা বিবৃতি। কিন্তু পরের ম্যাচটা শুরু হবে ০-০তে, তাই এই বিবৃতি কোনো অর্থ বহন করে না! আমাদের শান্ত থাকতে হবে। আমরা এখন খুশি, কাল সকালে উঠে ঘর থেকে আসা বার্তাগুলোর উত্তর দিয়েই আবার কাজে নামতে হবে।’

বার্সেলোনার ইতিহাসের

সবচেয়ে বড় হার

প্রতিপক্ষ               ব্যবধান     সাল         প্রতিযোগিতা

সেভিয়া                ১১-১     ১৯৪০     লা লিগা

রিয়াল মাদ্রিদ       ১১-১     ১৯৪৩     কোপা দেল রে

সেভিয়া                ৮-০       ১৯৪৬     কোপা দেল রে

রিয়াল মাদ্রিদ       ৮-২       ১৯৩৫     লা লিগা

বায়ার্ন মিউনিখ                 ৮-২    ২০২০          চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

১              ইউরোপসেরার আসরে নকআউট পর্বে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৮ গোল করার ইতিহাস গড়েছে বায়ার্ন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গ্রুপ পর্ব মিলিয়েও এটিই এক ম্যাচে বায়ার্নের সর্বোচ্চ।

৪              ইতিহাসে কখনোই এক অর্ধে চার গোল হজম করেনি বার্সা। বায়ার্নের বিপক্ষে দুই অর্ধেই হজম করেছে চারটি করে গোল।

৮             বার্সার বিপক্ষে লক্ষ্যভেদ করে টানা অষ্টম ম্যাচে গোল পেলেন রবার্ট লেভান্ডোভস্কি। ইতিহাসে এমন কীর্তি পঞ্চমবারের মতো দেখল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। এর আগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২০১৪, ২০১৮), রুড ফন নিস্টেলরয় (২০০২-০৩) ও লুইস আরাগোনেস (১৯৭০) এ কীর্তি দেখিয়েছেন।

৯             ইতিহাসে দ্বিতীয় দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ৯ ম্যাচ জিতল বায়ার্ন। এর চেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ড আছে কেবল বার্সার (১০), তবে সেবারও শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয় কাতালানরা।

১৩           দীর্ঘ ১৩ বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো স্প্যানিশ দল ছাড়া সেমিফাইনাল দেখছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

১৫           মেসি-রোনালদো নেই এমন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনাল সর্বশেষ হয়েছিল ২০০৪-০৫ মৌসুমে। দীর্ঘ ১৫ মৌসুম পর আবারও অচেনা এ দৃশ্যের অবতারণা ঘটছে এ বছর।