বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা জোরদার হয়েছে :কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ জন আসামি এখনো পলাতক। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।’ গতকাল শনিবার জাতীয় শোক দিবসে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহিদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্বের ইতিহাসে কলঙ্কিত দিন ১৫ আগস্ট, আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। প্রতি বছর বাঙালি জাতি এ দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের সঙ্গে স্মরণ করে। এ বছর            দিনটি আমাদের কাছে অধিক তাত্পর্যপূর্ণ কারণ এবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে জাতীয় শোক দিবস। ’

ওবায়দুল কাদের বলেন, পরাজিত শক্তি প্রগতির পথ রুদ্ধ করতে ইতিহাসের সেই ঘৃণ্য কালো অধ্যায় রচনা করেন জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। মুক্তিকামী বাঙালির সেই পুরোনো ক্ষত জাগ্রত হবার দিন ১৫ আগস্ট। ভারাক্রান্ত এই দিবসের শুরুতেই শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয় অবিসংবাদিত এই নেতাকে। তিনি বলেন, ‘এত দিন জাতীয় শোক দিবসে যারা ভুয়া জন্মদিন পালন করে কেক কাটতো, এবার তারা সেটি করেনি। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ায় জনগণ স্বস্তি পেয়েছে। এজন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। ’

এদিকে গতকাল দুপুরে গ্রীন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, যে বুলেট শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে এতিম করেছিল, সেই একই বুলেট বেগম খালেদা জিয়াকে বিধবা করেছে। হত্যা হত্যাকে ডেকে আনে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, যে বুলেট বঙ্গবন্ধুকে রক্তাক্ত করেছিল সেই বুলেটই জিয়াউর রহমানকে রক্তাক্ত করেছে। তিনি বলেন, সেনাপতি জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল। আইন করে খুনিদের বিচার প্রক্রিয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্যতম ইতিহাস পৃথিবীতে আর একটিও নেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দীর্ঘদিন বাংলাদেশ যে পাপের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন বলেই আজ জাতি পাপের বোঝা থেকে মুক্ত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মী হত্যা করেছিল, তারা কি সেসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছে—প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, যারা খুন-গুমের কথা বলেন তারা কি কোনো দিন কোনো খুনের বিচার করেছে ? গ্রীন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশেরর উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মো. গোলাম সামদানির সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান।