শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঘরবন্দি কর্মহীন মানুষের খাদ্যসহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের তহবিলে ১০ হাজার টাকা দান করা ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন আজ রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘরে উঠছেন। একটু বৃষ্টি হলেই হতদরিদ্র ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের ঘরে পানি পড়ত। ভিজে একাকার হতো সব। ঘর মেরামত করতে দুই বছর ধরে ১০ হাজার টাকাও জমিয়েছিলেন তিনি। এই করোনা মহামারিতে কর্মহীন মানুষের কষ্ট সইতে না পেরে সেই টাকা সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করে দেন নাজিম উদ্দিন।
এত দিনের কষ্টের জীবন শেষে ভেন্নাপাতার ছাউনির মতো ঘর ছেড়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী সেই ‘দাতা ভিক্ষুক’ আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের আধুনিক পাকাবাড়িতে উঠবেন। সরকারের ত্রাণ তহবিলে হতদরিদ্র ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের দানের খবরটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এলে তিনি ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের উদারতায় খুশি হয়ে নিজের তহবিল থেকে উপহার হিসেবে জমি, ঘর এবং দোকান করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। নাজিম উদ্দিন যে ঘরটিতে এত দিন ছিলেন সেটি মূলত সরকারের খাস জমিতে ছিল। এটি ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনও এত দিন জানতেন না। সরকারের এই খাস জমিটিও ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নাজিম উদ্দিন যে ঘরে থাকতেন সেই জমি কিছুটা সম্প্রসারণ করে ১৫ শতাংশ জমি তার নামে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। নাজিম উদ্দিনকে যাতে আর কখনো ভিক্ষে করতে না হয় সেজন্য তাকে একটি দোকানও করে দিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হতদরিদ্র ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের চিকিত্সার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে তার অসুস্থ মেয়ের চিকিত্সাও করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার পেয়ে খুশি ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের মৃত ইয়ার উদ্দিনের ছেলে নাজিম উদ্দিন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘর রেডি হইছে। কাল (রবিবার) নতুন ঘরে তুলে দেব, ডিসি সাব আইব। ঘর পছন্দ হয়েছে। খুশি হইছি দেইখা।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করে তিনি বলেন, ‘এ রকম প্রধানমন্ত্রী আমার ৮২ বছর বয়সে আর কহনো দেহি নাইকা। মনে করন আমি তো করোনার জন্য ট্যাহাডা দিছি। সেখানে খুশি হইয়া প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে উপহার দিছে, খুব আমি খুশি হইছি। ঘরবাড়ি সব দিল। আমি আর কোনো কিছু চাই না।’ তিনি বলেন, ‘আমি দোয়া করি আল্লাহ তারে (প্রধানমন্ত্রী) দীর্ঘদিন বাঁচায়ে রাখুক। যত দিন বেঁচে থাকে তত দিন আল্লাহ তারে রাজত্ব (দেশ শাসন) করার সুযোগ দিক।’ নাজিম উদ্দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সামনে থেকে দেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। শেরপুর জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী খুশি হয়ে ওনাকে (ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন) একটা বাড়ি উপহার দিয়েছেন। বাসার চাবি আমরা হস্তান্তর করব কালকে (রবিবার)। ওনাকে আমরা নতুন ঘরে তুলে দেব।’
ভিক্ষুক হয়েও কষ্টের জমানো টাকা দান করে দিয়ে নজির স্থাপন করায় বিভিন্ন সময় নাজিম উদ্দিনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন সারা বিশ্বে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিন) সারা বিশ্বে মহত্ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। এত বড় মানবিক গুণ, অনেক বিত্তশালীর মধ্যেও দেখা যায় না। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।