দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্তের ১৬১তম দিনে ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। এক দিনে আরো ৩৪ জন মারা গেছেন। শুক্রবারও ৩৪ জন মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মারা গেছেন ৩ হাজার ৬২৫ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় গতকাল মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত ৫ আগস্ট থেকে মৃত্যুর একই হার বিদ্যমান রয়েছে। অর্থাত্ টানা ১১ দিন করোনায় মৃত্যুর একই হার।
গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ১২ জন। শুক্রবারের চেয়ে গতকাল ৭৪০ জন কম সুস্থ হয়েছেন। শুক্রবার সুস্থ হয়েছিলেন ১ হাজার ৭৫২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৩৫ জন। তিনি জানান, গতকাল শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৫৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল সুস্থতার হার শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ কম।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৮৯১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৬৪৪ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবারের চেয়ে গতকাল ১২২ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। শুক্রবার ১২ হাজার ৮৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ৭৬৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২২ দশমিক ৫২ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল শনাক্তের হার শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ কম। দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৩ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৭৪ হাজার ৫২৫ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশের ৮৭টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়। শুক্রবার নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১২ হাজার ৮৫৬ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের চেয়ে ৩৫টি বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৮৬৫ জন (৭৯ দশমিক ০৩ শতাংশ) এবং নারী ৭৬০ জন (২০ দশমিক ৯৭ শতাংশ)।
গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুই জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব নয় জন এবং ষাটোর্ধ্ব ২২ জন ছিলেন। ঢাকা বিভাগের ছিলেন ১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের সাত জন, খুলনা বিভাগের সাত জন, রাজশাহী বিভাগের একজন, সিলেট বিভাগের দুই জন এবং রংপুর বিভাগের ছিলেন একজন।