মস্কোতে জাতীয় শোক দিবস পালন

বাংলাদেশ দূতাবাস, মস্কোতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করা হয়। সকাল ৮:০০ ঘটিকায় রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান কর্তৃক জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচী সূচিত হয়। সন্ধ্যা ৬:০০ টায় দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে একটি আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই শোক দিবসের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে দূতাবাসের কর্মকর্তারা জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। আলোচনা সভার প্রারম্ভে ১৫ অগাস্টের কাল রাত্রিতে শহীদ জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে শোক দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ পাঠ করে শোনানো হয়।

রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত মূল আলোচনা সভায় বক্তাগণ ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যগণের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তাদের নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার সম্পূর্ণরূপে কার্যকরের আশাবাদ প্রকাশ করেন। বক্তারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আজকের এই শোকের দিনকে শক্তিতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সংগ্রামের কালানুক্রমিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি বঙ্গমাতার নেপথ্যের ভূমিকার উপরও আলোকপাত করেন। এরপর তিনি জাতীয় শোক দিবসের পটভূমি ও ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ্য করে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নৃশংস হত্যাকান্ডে আমাদের জাতীয় জীবনে যে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতির উপর সংক্ষেপে আলোচনা করেন এবং তাঁর আদর্শের কার্যকর প্রচারের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর যে সব সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল তা বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে সকলকে আহবান জানান। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও জাতীয় শোক দিবসের উপর নির্মিত বেশ কয়েকটি তথ্যবহুল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

পরিশেষে বঙ্গবন্ধু সহ ১৫ অগাস্টে শাহাদাৎবরণকারী তাঁর পরিবারের সকলের আত্মার চিরশান্তি কামনা করে একটি দোয়া মাহফিল আয়োজন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন দূতাবাসের উপপ্রধান (মিনিস্টার) আন্দ্রিয় দ্রং।

ইত্তেফাক/আরকেজি