বন্যা নিয়ে গেল মরিচ চাষিদের ভাগ্য 

রাণীনগরে ৩বারের বন্যায় মরিচ চাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। গত মৌসুমে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উপজেলায় উৎপাদিত মরিচ বাজারজাত করা হলেও চলতি মৌসুমে লাগাতার বৃষ্টি আর দীর্ঘ সময়ের বন্যার কারণে মরিচের গাছগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫০হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছিল। স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বাঁশগাইয়া, মল্লিকা, বিন্দু, হট মাস্টার, সুরক্ষাসহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের মরিচ আবাদ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে রাণীনগরে বিভিন্ন হাটবাজারে কাঁচা মরিচ ২শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও ঈদুল আযাহার পর বাজার দর কিছুটা কমের দিকে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৫টি ইউনিয়নে চাষীরা পরীক্ষামূলকভাবে ধান চাষের পাশাপাশি মরিচ চাষ শুরু করেছে। গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে মরিচ চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে বন্যার কারণে হঠাৎ করে প্রতি কেজি মরিচ কাঁচা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা বেশ লাভবান হয়েছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। 

উপজেলার গোনা গ্রামের কৃষক কবির উদ্দিন বলেন, এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় আমার ১০কাঠা জমির মরিচ খেত নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকবার মরিচ তোলার পর বন্যার পানি জমিতে ঢুকে সব মরিচগাছ মরে গেছে। এতে করে এবার মরিচ চাষ করে আমি ব্যাপক ভাবে লোকসানে পড়েছি।  

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কৃষিবিদ মো: শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষকদের মাটির বৈচিত্র্য ও উর্বরতা রক্ষায় চাষিদেরকে আমরা পরিবর্তনশীল এবং লাভজনক ফসল চাষে পরামর্শ দিচ্ছি। যার ফলে চাষিরা ধানের পাশাপাশি মরিচ চাষ করছে। এই মশলা জাতীয় ফসল চাষ করে উপজেলার প্রায় ৫টি ইউনিয়নের চাষিরা লাভবান হয়েছে। তবে লাগাতার বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে মরিচ চাষিদের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা তৈরি করে উপর মহলে পাঠিয়েছি। কোন সহায়তা এলেই তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

ইত্তেফাক/আরকেজি