বাংলা
গদ্যাংশ
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে বাংলা প্রথমপত্রের সৃজনশীল লেখা। চোখ রাখো ইত্তেফাকের অনুশীলন পাতায়। তোমরা মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন কর।
মানুষ মুহম্মদ (স.)
১.নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ইসলামের একজন বিশিষ্ট রাসুল হযরত দাউদ (আ)। মানুষকে সঠিক পথে আনা ও সত্ পথ দেখানোর জন্য তাঁর ওপর যাবুর কিতাব অবতীর্ণ হয়। হযরত দাউদ (আ) সুমধুর সুরে যাবুর পাঠ করতেন। নদীর বিভিন্ন প্রজাতির মাছ তাঁর পাঠ শুনতে নদীর এক কোণে জড় হতো। আর তাই সেখানকার মানুষকে তিনি শনিবার দিন মাছ ধরতে নিষেধ করেন। আর এ কথা বলে সতর্ক করে দেন যে, ‘যারা শনিবার মাছ ধরবে তাদের ওপর সৃষ্টিকর্তা শাস্তি বর্ষণ করবেন’। কিছু লোক তাঁর কথা না শুনে নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরলে সে লোকগুলো বানরে পরিণত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে।
ক.আহযাবের যুদ্ধের অপর নাম কী? ১
খ.“আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই।”- ব্যাখ্যা কর। ২
গ.হযরত দাউদ (আ) এর সাথে প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.)-এর বৈসাদৃশ্য তুলে ধর। ৩
ঘ. হযরত দাউদ (আ) ঐ লোকদেরকে শাস্তি না দিলে তাঁর মধ্যে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর একটি বিশেষ গুণ ফুটে উঠত- বিশ্লেষণ কর। ৪
ক.আহযাবের যুদ্ধের অপর নাম খন্দকের যুদ্ধ।
খ.মহানবি (স.)-এর প্রতি তাঁর ভক্ত বা অনুসারীদের ভীতি দূর করার উদ্দেশ্যে মহানবি (স.) নিজের সম্বন্ধে আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
মহানবি (স.) নিজেকে সাধারণ মানুষ ভাবতেন। মক্কাবিজয়ের পর সাফা পর্বতের পাশে তিনি যখন সত্যান্বেষী মানুষকে দীক্ষা দিচ্ছিলেন তখন একজন লোক তাঁর কাছে এসে ভয়ে কাঁপতে থাকে। তিনি হাসিমুখে তাকে অভয় দিয়ে নিজেকে সাধারণ স্তরের মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বললেন “আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই।” এ উক্তির মধ্য দিয়ে মহানবির নিজের সম্বন্ধে তুচ্ছতাবোধ প্রকাশ পেয়েছে।
গ.হযরত দাউদ (আ) এর সাথে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.) এর গুণগত দিক থেকে বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.) এর গুণাবলির বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এখান থেকে জানা যায় যে, মহানবি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ছিলেন। তিনি কখনও কাউকে অভিসম্পাত করেননি বরং তাঁর শত্রুদের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন যেন তারা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু উদ্দীপকে এর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, হযরত দাউদ (আ.) একজন রাসুল। তিনি তাঁর ওপর অবতীর্ণ যাবুর কিতাব প্রতিদিন পাঠ করতেন। তাঁর কিতাব পাঠ খুবই সুমধুর ছিল। নদীর মাছগুলো তাঁর এই সুমধুর পাঠ শোনার জন্য নদীর কিনারায় জড়ো হতো। তাই দাউদ (আ) ওখানকার মানুষদেরকে শনিবারে মাছ ধরতে নিষেধ করেন। তাদেরকে সাবধান করে দেন কেউ যদি আদেশ অমান্য করে, তবে সে সৃষ্টিকর্তার পক্ষ হতে শাস্তি পাবে। কিছু লোক তাঁর আদেশ অমান্য করায় তারা বানরে পরিণত হয় এবং মৃত্যুবরণ করে। দাউদ (আ) তাদেরকে ক্ষমা করেননি। লোকগুলোর পাপকাজের শাস্তিতে তিনি কোনো আপত্তি জানাননি। পক্ষান্তরে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত চরিত্র হযরত মুহম্মদ (স.) এ দিক থেকে ছিলেন হযরত দাউদ (আ)-এর চেয়ে ব্যতিক্রম। ইসলাম প্রচারের কাজে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। কখনও তাঁকে শত্রুপক্ষের আঘাতও পেতে হয়েছে। তিনি শত্রুদের ওপর প্রতিশোধ পরায়ণ না হয়ে তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু ইচ্ছে করলে তিনিও হযরত দাউদ (আ)-এর মতোই পাপীদেরকে শাস্তি প্রদানের পক্ষে থাকতে পারতেন। তা না করে তিনি শত্রুদেরকে তাদের পাপ পথ থেকে ফিরে এসে নিজেদেরকে শুধরিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেন। তাই বলা যায়, প্রতিশোধ পরায়ণ মনোভাব ধারণ করে ক্ষমাশীল না হওয়ার কারণেই উদ্দীপকের দাউদ (আ) এর সাথে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.)-এর বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. হযরত দাউদ (আ) ঐ লোকদেরকে শাস্তি না দিলে তাঁর মধ্যে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার গুণটি ফুটে উঠত। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর গুণাবলিসমূহ অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর আলোকে জানা যায়, তিনি ছিলেন ক্ষমাশীল ও মহানুভব। শত্রুর দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হলেও তিনি কখনও শত্রুকে অভিসম্পাত করেননি। কিন্তু উদ্দীপকের রাসুল হযরত দাউদ (আ) মহানবির এ ক্ষমাশীলতা গুণের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেছেন। উদ্দীপকের হযরত দাউদ (আ) যারা অপরাধ করতে পারে এমন লোকদের পূর্বেই সতর্কবাণী প্রদান করেছেন। শনিবার তাদেরকে নদীতে মাছ ধরতে নিষেধ করেছেন। তাঁর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু লোক মাছ ধরেছে আর পরিণামে তাদেরকে বানর হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে হযরত দাউদ (আ) তাদেরকে যদি শাস্তি না দিতেন তাহলে তাঁর মধ্যে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর একটি বিশেষ গুণ ফুটে উঠত, তা হলো ক্ষমা। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে জানা যায়, ইসলাম প্রচারের শুরু থেকেই মহানবি (স.)-এর পেছনে শত্রু লেগেছিল। সুযোগ পেলেই তারা হযরতের সঙ্গে বৈরী আচরণ করত, যুদ্ধে মেতে উঠত এবং বিভিন্নভাবে কষ্ট দিত। ওহুদের যুদ্ধে তাঁর দাঁত মোবারক ভেঙে যায় শত্রুদের আঘাতে । তায়েফে সত্য প্রচার করতে গিয়ে শত্রুর পাথরের আঘাতে তিনি প্রায় মৃত্যুর দুয়ারে চলে গিয়েছেন, তথাপি শত্রুদের প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ ছিল না। তিনি চাইলেই মহান আল্লাহ শত্রুদেরকে নিপাত করে দিতেন। কিন্তু তিনি তা চাননি, কারণ তিনি সবসময়ের জন্য ছিলেন ক্ষমাশীল। ক্ষমার এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত শতভাগ রূপ নিয়েছে মক্কা বিজয়ের সময়। যখন তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়েও সকল পাপী ও অপরাধীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। উদ্দীপকের হযরত দাউদ (আ) শত্রুদের প্রতি এমন ক্ষমা প্রদর্শন করেননি। যদি করতেন তাহলে তিনিও হযরত মুহম্মদ (স.) এর এই বিশেষ গুণে গুণান্বিত হতেন। কিন্তু তিনি তা না করে বরং পাপীদের শাস্তি প্রদান করেছেন। এটি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর গুণের বিপরীত। ক্ষমাশীলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি উদ্দীপকের দাউদ (আ)। পরিশেষে বলা যায়, পৃথিবীর ইতিহাসে হযরত দাউদ (আ) এবং হযরত মুহম্মদ (স.) দুজনই অমর চরিত্র। তবে ক্ষমা গুণের জন্য হযরত মুহম্মদ (স.) অনন্য। এই গুণটি তাঁর মধ্যে যেভাবে ফুটে উঠেছিল আজ পর্যন্ত দ্বিতীয় কেউ এটিকে নিজ চরিত্রে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেননি।