সন্ধ্যা ৭টা বেজে ২৯ মিনিট। ১৫ আগস্ট, ২০২০। ভারতীয় ক্রিকেটে এমন বিষাদময় ক্ষণ সাম্প্রতিক সময়ে আর আসেনি। বিশ্ব ক্রিকেটে কি এসেছে? মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো এত ঠান্ডা মেজাজের প্রখর ক্রিকেট মস্তিষ্ক তো ক্রিকেটেও বিরল।
তার বিদায় বেলায় তাই শোক ছুঁয়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে গেল সম্ভবত সুরেশ রায়নাকে। তিনি নিজের সাবেক অধিনায়কের সঙ্গেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে দিলেন।
সুরেশ রায়নার মতোই ধোনির সাহচর্য কিংবা দীক্ষা পেয়েছিলেন বিরাট কোহলিও। তার টুইটও ছিল খুবই আবেগী। লিখেছেন, ‘সব ক্রিকেটারকেই একদিন এই যাত্রা শেষ করতে হয়, তবে তাদের কেউ আপনার খুব কাছের কেউ হলে সেই বিদায়টা আপনাকে আরো বেশি করে ছুঁয়ে যেতে বাধ্য। আপনি দেশের জন্য যা করেছেন, সেটা সবাই হূদয়ে ধারণ করে রেখেছে, তবে যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর আন্তরিকতা আমি আপনার কাছ থেকে পেয়েছি সেটা সব সময় আমার মধ্যে থাকবে। বিশ্ব দেখেছে অর্জন, আমি দেখেছি মানুষটাকে। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ অধিনায়ক, আমার মাথার এই টুপিই আপনার বিদায়ি উপহার।’
ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালের সর্বসেরা মহাতারকা শচীন টেন্ডুলকার ক্যারিয়ারে একবারই বিশ্বকাপ জিতেছেন। সেবার, মানে ২০১১ সালের সেই বিশ্বকাপের অধিনায়ক ছিলেন এই ধোনি। শচীনও তাই সাবেক সতীর্থের বিদায় বেলায় চুপ থাকেননি।
লিখেছেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটে তোমার অবদান অসামান্য। এক সঙ্গে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জিততে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। তোমাকে ও তোমার পরিবারকে দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য শুভেচ্ছা।
ধোনির ক্যারিয়ারের সূচনা হয় বাংলাদেশের মাটিতে। ২০০৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে তার ওয়ানডে অভিষেক। সেই থেকে শুরু করে টানা ১৬ বছর ছিলেন ২২ গজে। বিদায় বেলায় বাংলাদেশ থেকেও পেলেন শ্রদ্ধা।
বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ও সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, ‘অনন্য একজন কিংবদন্তি তিনি। দারুণ একজন নেতা, তুখোড় একজন উইকেটরক্ষক, সেরা ফিনিশার ও অসামান্য একজন মানুষ—অনেক গুণই আছে তার মধ্যে। মাহি ভাইকে বড় একটা ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
শামিল হয়েছেন সাকিব আল হাসানও। তিনি লিখেছেন, ‘বিদায় মহেন্দ্র সিং ধোনি। খেলার মাঠে আপনি ছিলেন নিঃসন্দেহে একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে আপনি অনুপ্রাণিত করেছেন লাখো মানুষকে। আপনার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য রইল শুভ কামনা।’
চট্টগ্রামে ক্যারিয়ারের সেই শুরুর ম্যাচটায় রান আউট হয়েছিলেন। করেছিলেন বাংলাদেশের খালেদ মাসুদ পাইলট। ২০১৫ বিশ্বকাপে শেষবারের মতো সেমিফাইনালে যেদিন মাঠে নামেন, সেদিন তাকে সেই রান আউটের ফাঁদেই ফেরান নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল। শুরু আর শেষে কি অদ্ভুত মিল। তিনি শূন্য হাতে এসেছিলেন, ফিরে গেলেন মহিরুহ হয়ে!
পরিসংখ্যানে ধোনি
টেস্ট:
ম্যাচ রান সেঞ্চুরি/ফিফটি ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচ/জয়
৯০ ৪৮৭৬ ৬/৩৩ ২৫৬/৩৮ ৬০/২৭
ওয়ানডে:
ম্যাচ রান সেঞ্চুরি/ফিফটি ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচ/জয়
৩৫০ ১০৭৭৩ ১০/৭৩ ৩২১/১২৩ ২০০/১১০
টি-টোয়েন্টি:
ম্যাচ রান সেঞ্চুরি/ফিফটি ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচ/জয়
৯০ ১৬১৭ ০/২ ৫৭/৩৪ ৭২/৪১