সেই ২০১১ সালে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন পেপ গার্দিওলা। এরপর বায়ার্ন মিউনিখকে নিয়ে সেমিফাইনালে খেললেও শিরোপার দেখা পাননি, এরপর ম্যানচেস্টার সিটিতে এসে তো শেষ চারই হয়ে গেছে রীতিমতো সোনার হরিণ! এবার সংকুচিত ফরম্যাটের সুযোগটা বেড়েছিল সিটির। কিন্তু অলিম্পিক লিওঁর কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে আবারও শেষ আটেই থেমেছে গার্দিওলার শিষ্যদের যাত্রা।
ইতিহাস সতর্কবার্তা জানাচ্ছিল খেলার আগ থেকেই। লিওঁর বিপক্ষে দুইবার খেলে জয় ছিল না একটি ম্যাচেও। এমন সতর্কবার্তা পেয়েই কি না সিটির স্প্যানিশ কোচ গেলেন খোলসে ঢুকে। পুরো মৌসুমে বহুল চর্চিত ৪-৩-৩ ছক থেকে বেরিয়ে লিওঁর বিপক্ষে দল সাজান ৩-৪-২-১ ছকে। তাতে ধাতস্থ হবার আগেই ২৪ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এর আগে সিটির বিপক্ষে দুই ম্যাচে তিন গোল করা ম্যাক্সওয়েল কর্নে। নতুন কৌশলে মানিয়ে নেওয়া সিটি এরপর লিওঁকে চেপে ধরলেও সমতাসূচক গোলের দেখা পায়নি।
গোলের সন্ধানে মরিয়া গার্দিওলা দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে যান পুরোনো ছকেই, ফার্নান্দিনহোকে তুলে মাহরেজকে নামিয়ে। তাতে ধার বাড়ে সিটির আক্রমণের। গোটা দুই ফ্রি কিক আদায় করার পর সমতাসূচক গোলটি আসে ৬৯ মিনিটে, কেভিন ডি ব্রুইনের পা থেকে।
তবে ৭৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা মুসা দেম্বেলের গোলে আরো একবার পালাবদল হয় ম্যাচের ধারায়। পিছিয়ে পড়া সিটি মরিয়া আক্রমণ ঠেকিয়ে প্রতি আক্রমণের কৌশলে এ সময়ে ম্যাচের লাগাম হাতে পায় লিওঁ। এরপর অবশ্য ৮৬ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগ পায় সিটি, তবে ফাঁকা জালেও বল জড়াতে ব্যর্থ হন রাহিম স্টার্লিং। এর ঠিক ৫০ সেকেন্ড পরই সিটির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন দেম্বেলে। ফলে ২০০৯-১০ মৌসুমের পর আবারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠে লিওঁ। প্রতিপক্ষ হিসেবেও কাকতালীয়ভাবে পাচ্ছে সেবারের প্রতিপক্ষ বায়ার্ন মিউনিখকেই।
বড় মঞ্চে এসে গার্দিওলার পরীক্ষা-নিরীক্ষার স্বভাব অবশ্য নতুন নয় মোটেও। বার্সেলোনায় থাকাকালীন সময়ে অনভিজ্ঞ ইব্রাহিম অ্যাফেলাই, বোজান ক্রকিচদের অবলীলায় মাঠে নামাতেন। এরপর বায়ার্ন-সিটিতেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ভিন্ন কৌশল দিয়ে প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা কাল হয়ে উঠেছে প্রতিবার।
ভুল কৌশলে আরো একবার ব্যর্থ হওয়ার পর স্প্যানিশ এই কোচের সরল স্বীকারোক্তি, নিখুঁত ছিল না তার দল। বললেন, ‘শুরুর ২৫ মিনিটে সমস্যা হলেও পরে মানিয়ে নিয়েছিলাম আমরা। এরপর আমার কাছে মনে হয়েছে শ্রেয়তর দল আমরাই ছিলাম। কিন্তু এমন মঞ্চে এসে আপনাকে নিখুঁত হতে হয়, যেটা আমরা ছিলাম না।’
‘কোনো এক সময়’ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ব্যর্থতা কাটানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে গার্দিওলা বলেন, ‘যা হয়ে গেছে, হয়ে গেছে। হয়তো কোনো একদিন এ শূন্যতাটা কাটাবো আমরা।’