ফুটবলের হাতে এখন অফুরন্ত সময়। কোভিড-১৯ এর প্রভাবে ফিফা এশিয়া অঞ্চলের ফুটবল এ বছরের জন্য বন্ধই রাখল। এএফসি কাপে বসুন্ধরার খেলা থাকলেও জাতীয় দলের খেলা নেই। না থাকার কারণে ফুটবলের হাতে পর্যাপ্ত সময় এসেছে। অলস সময়টা কীভাবে কাজে লাগানো যায়—তা নিয়ে তত্পরতা শুরু করেছে বাফুফে। ন্যাশনাল টিমস কমিটি প্রায় প্রতিদিনই ভাবছে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স কীভাবে সচল রাখা যায়।
বাফুফের সহসভাপতি তাবিথ আওয়াল জানিয়েছেন, তারা খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এমনিতেই অনেক দিন খেলার বাইরে। এখন যদি আরো সময় এভাবে কেটে যায় তাহলে মাঠে নামলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে আরো বেশি প্রশ্ন উঠবে। ২০২০ সালটা শেষ হতে আরো প্রায় চার মাস বাকি। খেলোয়াড়দের মাঠে ফিরিয়ে আনার জন্যই মূলত বাফুফের এখন বড় দায়িত্ব। তাবিথ বললেন, ‘আমরা প্রতিদিনই আলোচনা করছি। কারণ ফিফার ম্যাচ নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। ফিফা যখন বলবে, তখনই আমরা সেটা নিয়ে কাজ করতে পারব। তার আগে এখন হাতে যে সময়টা রয়েছে সেটি কাজে লাগাতে ঘরোয়া লিগ শুরু করা যায় কি না, তা নিয়ে লিগ কমিটি ভাবছে।’
প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী নতুন মৌসুম নিয়ে জানিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে ক্লাবগুলোর সঙ্গে বসবেন। কীভাবে নতুন মৌসুম শুরু করা যায়—তা নিয়ে ক্লাবগুলোর মতামত জানতে চাইবেন। সলাম বললেন, ‘আমি একা চাইলেই হবে না। কোভিড-১৯ এর কী পরিস্থিতি, ঈদের পর অফিস খুলেছে। এখন মৃত্যুর হার কমছে না বাড়ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বাস্থ্যটাও দেখতে হবে। ক্লাবগুলোর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করা হবে। এই সপ্তাহে এটা সম্ভব না। আরেকটু দেখতে হবে। আর আগামী সপ্তাহে বসার একটা প্ল্যান রয়েছে।’
লিগ খেলবে ক্লাবগুলো। তাদের সঙ্গে কথা বলে একটা পথ বের করতে চায় বাফুফে। শুধু ক্লাবগুলোই নয়, সালাম মুর্শেদী জানিয়েছেন তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গেও কথা বলবেন। খেলোয়াড়দের মতামতের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি। সালাম বললেন, ‘আমরা ক্লাবগুলো পাশাপাশি খেলোয়াড়দের কল্যাণ সমিতির সঙ্গেও বসব। সেটিও একটি আলাদা সময়ে।’
কারণ এখন বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিক অবস্থা মন্দা। ক্লাবগুলো পরিচালিত হয় পৃষ্ঠপোষকদের সহযোগিতায়। তাবিথ আওয়াল জানিয়েছেন, ‘যদি লিগ না হয় তাহলে সেপ্টেম্বর মাসটা কাজে লাগাতে চাই, তাহলে প্লেয়ারদের নিয়ে একটা ক্যাম্প করতে হবে।’