টাকার বিনিময়ে মশা মারার কার্যক্রমে সাড়া মেলেনি

রাজধানীর বাসাবাড়িতে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস করার জন্য টাকার বিনিময়ে সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। যাতে এর মাধ্যমে যাদের বাসায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল রয়েছে সেটি সম্পর্কেও অবগত হতে পারে সংস্থাটি। গত ১ জুলাই থেকে কার্যক্রমটি শুরু হলেও দেড় মাসে কোনো আবেদন জমা পড়েনি। বাধ্য হয়েই গতকাল থেকে তিনটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করেছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ডিএসসিসির তিনটি ভ্রাম্যমাণ আদালত  অঞ্চল-১ এর ধানমন্ডি এলাকা, অঞ্চল-২ এর শাজাহানপুর এলাকা ও অঞ্চল-৩ এর ঝিগাতলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। অভিযানে এক জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া মশার প্রজননস্থল পাওয়ায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, প্রথম দিনে অভিযান পরিচালনা করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত থাকবে। তবে তুলনামূলক কমই মশার প্রজননস্থল পাওয়া গেছে।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, যে কোনো আবেদনের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের পর তিন কার্যদিবসের মধ্যেই সেবাগ্রহীতার বাড়িতে গিয়ে ডেঙ্গু মশার প্রজননস্থল এডিসের লার্ভা ধ্বংস করার কথা সংস্থার। সেবাটি নিতে প্রত্যেক ডিএসসিসি নাগরিককে তিন কাঠা পর্যন্ত এক ইউনিট বাড়ির ক্ষেত্রে (৫ তলা পর্যন্ত) ২ হাজার টাকা দিতে হবে। এ ছাড়া তিন থেকে পাঁচ কাঠার ফ্ল্যাট বাড়ির (প্রতি ফ্লোর) আড়াই হাজার টাকা, পাঁচ থেকে ১০ কাঠা পর্যন্ত অ্যাপার্টমেন্ট ১০ তলা পর্যন্ত (প্রতি ফ্লোর) সাড়ে ৩ হাজার টাকা, ১০ তলার ওপরে বেজমেন্টসহ ৫ হাজার এবং বাণিজ্যিক ভবনের জন্য ফি দিতে হবে আট হাজার টাকা। 

অনলাইনের মাধ্যমে এই সেবা উদ্বোধনের সময় ডিএসসিসির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, ‘কারও বাসাবাড়িতে বা বেজম্যান্টে মশার লার্ভা বা লার্ভার বিস্তারক্ষেত্র রয়েছে কি না, সেটা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব না। এ ধরনের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্যই বছরব্যাপী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এখন থেকে ঢাকাবাসীর জন্য অনলাইনে আবেদনের ভিত্তিতে প্রজননস্থলে কীটনাশক ছিটানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আবেদনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট টাকা পরিশোধ করে কোনো নাগরিক সেবা না নিলেও ওয়েবসাইটে বহু নাগরিক এ সংক্রান্ত তথ্য দেখেছেন। তবে তারা কেউই চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করে সেবার জন্য আবেদন করেননি। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে গতকাল থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে ডিএসসিসি।