সাড়ে চার মাস পর মধ্যপাড়া খনি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু

করোনার কারণে সাড়ে চার মাস বন্ধ থাকার পর আবারও উত্পাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে দেশের একমাত্র দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথরখনিতে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শ্রমিকদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এক শিফটে ভূগর্ভ থেকে ২৬১ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়। তবে তিন শিফটে পুরোদমে পাথর উত্তোলন করতে মাসখানেক সময় লাগবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে ২০০৭ সালে ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করে। প্রথম দিকে দৈনিক দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা গেলেও পরে তা মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টনে নেমে আসে। এতে খনিটি লোকসানের মুখে পড়তে পারে এমন অবস্থায় পাথর উত্তোলন বাড়াতে ২০১৪ সালে ৯২ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের বিপরীতে ১৭১ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলারে খনির উন্নয়ন ও উত্পাদনকাজের জন্য এমজিএমসিএলের সঙ্গে চুক্তিবন্ধ হয় বেলারুশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)।

এদিকে খনির উন্নয়ন ও উত্পাদনকাজ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির মতবিরোধের কারণে একাধিকবার পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এসব কারণে জিটিসি ৯২ লাখ টন পাথরের স্থলে পাথর উত্তোলন করে মাত্র ৩০ দশমিক ৭৬ লাখ টন। জিটিসি ১২টি স্টোভ নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেও নির্মাণ করেছে মাত্র ৬টি। এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি জিটিসির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। জিটিসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরো এক বছর বাড়ানো হয়েছে চুক্তির মেয়াদ। এ পরিস্থিতিতে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলেও করোনার কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় খনির পাথর উত্তোলন। এতে বেকার হয়ে পড়েন প্রায় ৮০০ শ্রমিক। এই সময়ে বকেয়া বেতনভাতা ও কাজে যোগদানের দাবিতে শ্রমিকেরা বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ-সমাবেশসহ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম কামরুজ্জামান বলেন, করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দিনে ১৬৫ জন শ্রমিককে কাজে লাগানো হয় এবং ১৫০ জন শ্রমিকের নমুনা পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব শ্রমিকের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে কাজে লাগানো হবে। সব শ্রমিককে কাজে লাগলে তিন শিফটে পুরোদমে উত্পাদন শুরু হবে। তবে এতে মাসখানেক সময় লেগে যাবে।