যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নির্যাতনে তিন কিশোর হত্যা ও ১৫ জনকে আহতের ঘটনায় বন্দি আট কিশোরকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোরের চাঁচড়া ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক রকিবুজ্জামান বন্দি থাকা ৮ কিশোরকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য রবিবার আদালতে আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। তারা হলো চুয়াডাঙ্গার আনিছ, গাইবান্ধার খালিদুর রহমান তুহিন, নাটোরের হুমাইদ হোসেন ও মোহাম্মদ আলী, পাবনার ইমরান হোসেন ও মনোয়ার হোসেন, রাজশাহীর পলাশ ওরফে শিমুল এবং কুড়িগ্রামের রিফাত আহমেদ।
এদিকে শনিবার যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের পাঁচ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এদিনই আদালতে সোপর্দের পর সন্ধ্যায় ঐ পাঁচ জনের বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এ ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে। এছাড়া এ ঘটনায় পাঁচ সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক রকিবুজ্জামান বলেন, শনিবার আদালত পাঁচ জনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করার পরপরই তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। গতকাল তা চলমান ছিল।
এদিকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ঐ ঘটনায় সমাজসেবা অধিদপ্তর দুই সদস্যের যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, সেই কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কমিটির প্রধান সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ নূরুল বাসির বলেন, ইতিমধ্যে তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আহত কিশোরদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্তের জন্য তারা যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে যাবেন।
সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত পেয়েছে। কিশোরদের নির্মমভাবে মারপিটের পরও সময়মতো যদি তাদের হাসপাতালে নেওয়া হতো, তাহলে প্রাণহানির ঘটনা না-ও ঘটতে পারত বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি। নিহত তিন কিশোরকে হাসপাতালে নেওয়া হয় মৃত অবস্থায়। আর ঘটনার প্রায় ছয়-সাত ঘণ্টা পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এদিকে একই ঘটনার তদন্তে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবু লাইছকে প্রধান করে তিন সদস্যের যে তদন্ত কমিটি গঠন করে, সেই কমিটিও কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তমিজুল ইসলাম খান।