মৃতপ্রায় খালে পানি নেই, অথচ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে পাশাপাশি দু’টি কালভার্ট!

পাবনা শহরের ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে সদর উপজেলার কোলাদি এলাকার জামতলী বাজার সন্নিকটে পাবনা-সুজানগর আঞ্চলিক সড়কে খাল আছে তবে পানি নেই। পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ অবস্থায় কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে পুরোনো নকশায় পাশাপাশি দুটি কালভার্ট ভেঙে নতুন কালভার্ট নির্মাণ করছে। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এমন সিদ্ধান্তে এবং সরকারের অর্থ বিনা প্রয়োজনে অপচয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে কালভার্ট নির্মাণ কর্তৃপক্ষ পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ দাবি করছেন, পুরনো নকশাতেই ক্ষতিগ্রস্ত কালভার্টের পুনর্নির্মাণ হচ্ছে। 

কোলাদি গ্রামের বাসিন্দা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাঈদ-উল-ইসলাম বলেন, ‘এখানে একসময় খাল ছিল। স্থানীয় চাষিরা খালের পানিতে চাষাবাদ করতেন। কিন্তু জনবসতি বৃদ্ধি হওয়ায় কয়েক বছর এই খালে পানি নেই। স্থানীয়রা কৃষি কাজে এখন ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার করছেন।’ 

কালভার্ট সংলগ্ন বাসিন্দা দিন মজুর আনসার মন্ডল নীচে পানি থাকা বা পানির প্রবাহ না থাকলে কোটি টাকা ব্যয়ে কালভার্ট তৈরির কী দরকার বুঝতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি টাকা যথাযথ জায়গায় খরচ হওয়া উচিত।’ 

আরও পড়ুন: গফরগাঁওয়ে দুই ক্রীড়াবিদ পেলেন প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক প্রণোদনা

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই স্থানে পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১ কোটি ৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি কালভার্ট পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরানো কাজের কারণে নতুন করে সরেজমিন পরিদর্শনের প্রয়োজন মনে করেননি। আগামী অক্টোবরের মধ্যেই নির্মাণাধীন কালভার্ট দুটিতে সংযোগ সড়ক স্থাপন করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। 

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম সামসুজ্জোহা রবিবার কালভার্ট দুটির আদৌ প্রয়োজনীয়তা ছিল কিনা এমন প্রশ্নে ইত্তেফাককে বলেন, ‘আশির দশকে রাস্তার দুপাশে যেন পানি যাওয়া-আসা করতে পারে তাই কাছাকাছি দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। কালভার্ট দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। এক সময় এখানে পানি থাকলেও বর্তমানে নেই। যেহেতু পানির প্রবাহের উৎস আছে তাই কালভার্ট দুটি বাদ দেওয়া হয়নি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এটা নতুন প্রকল্প না, তাই প্রকল্পপূর্ব জরিপ করার প্রয়োজন ছিল না। পুরনো নকশায় নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন,‘এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে গেছেন,তার যোগদানের পূর্বের প্রকৌশলী। তিনি শুধু বর্তমানে কাজের বাস্তবায়ন করছেন।এটাই নিয়ম।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ বলেন, ‘পানি যেহেতু নেই, তাই একটি দিয়ে ভালো মতো কাজ চালানো যেত। একই জায়গায় প্রায় দশ মিটার দূরত্বে দুটি বড় কালভার্ট নির্মাণ সরকারি অর্থ নষ্টের শামিল।’

চেয়ারম্যান সাঈদ বলেন, ‘এই নির্মাণ কাজ শুরু করার আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা উচিত ছিল।’

ইত্তেফাক/এএএম