করোনা পরিস্থিতিতে দেশে প্রায় ১ লক্ষ অভিবাসী আটকা পড়িয়াছেন। ইহাদের মধ্যে কাহারো ভিসার মেয়াদ শেষ হইবার পথে, কেহ সংশ্লিষ্ট দেশ হইতে ভিসার অ্যাপ্রুভাল আনিয়াছেন, কাহারো অবস্থা এমন যে, অতি সত্বর বিদেশে যাইতে না পারিলে ভিসা বাতিল হইয়া যাইবে। এমন অবস্থায় বিমানের টিকিটের চাহিদা আকাশচুম্বী হইবে, ইহাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিমানের টিকিট বিক্রয়ের চিত্র যেন অব্যবস্থাপনার চরম নজির। আধুনিক এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যেইখানে এই সকল সমাধান সুন্দরভাবে করা সম্ভব, সেইখানে এন্তার অভিযোগ রহিয়াছে যে, সিস্টেম ম্যানুপুলেট করিয়া টিকিট সংকটকে আরো বাড়াইয়া দেওয়া হইয়াছে। তাহার প্রমাণ মিলে স্বাভাবিকের তুলনায় বর্তমানে নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিটের দাম দুই-তিন গুণ বাড়তি রাখিবার চিত্রে। জানা গিয়াছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইন যাইবার ৪০ হাজার টাকার টিকিট ১ লক্ষ ৪০ হাজারেও মিলিতেছে না। আবুধাবিসহ অন্যান্য গন্তব্যের বিমান টিকিটের দামও অস্বাভাবিক চড়া।
এমনিতেই করোনাকালে ছুটি কাটাইতে দেশে আসা প্রবাসীদের দুর্ভোগের শেষ নাই। একদিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা নেগেটিভ প্রতিবেদন জোগাড় করিবার বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট গন্তব্যের বিমান টিকিট উচ্চমূল্যেও মিলিতেছে না। ফলে শত শত প্রবাসগামী মানুষ ভিড় করিতেছেন বিমান অফিসে। যাত্রীদের লাইনের দৈর্ঘ্য বিমান অফিস পার হইয়া সড়কেও চলিয়া যাইতেছে আঁকিয়াবাঁকিয়া। অভিযোগ আছে, বিমানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ভিআইপির নামে টিকিট ব্লক করিয়া রাখেন। আর তাহাতেই সাধারণ যাত্রীরা টিকিট পাইতেছেন না। পরে ব্লক করা এই সকল টিকিটই সাধারণ যাত্রীদের নিকট দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হইতেছে। টিকিট সংকটের ব্যাপারে বিমান কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দিয়াছেন। তবে সেই ব্যাখ্যার সহিত অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধের মধ্যে শুভংকরের ফাঁকি রহিয়াছে। বিমান কর্তৃপক্ষ বলিতেছেন, দুবাই ও আবুধাবিগামী কোনো ফ্লাইটে ২৪০ জনের অধিক যাত্রী পরিবহন না করিবার ব্যাপারে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রহিয়াছে। ইহা ছাড়াও আবুধাবিতে বিমান পরিচালনার জন্য আবুধাবি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সেপ্টেম্বর ২০২০ মাসের শিডিউল এখনো পর্যন্ত দেয় নাই। এই জন্য এখনই ঢাকা-আবুধাবি-ঢাকা রুটে পরিচালিত ফ্লাইটের সেপ্টেম্বর মাসের টিকিট বিক্রি করা যাইতেছে না।
কিন্তু সাধারণ শ্রেণির যেই সকল টিকিট বিক্রয় হইতেছে, কেন সেই সকল টিকিট দ্বিগুণ তিন গুণ মূল্যে বিদেশগামীদের ক্রয় করিতে হইবে? অনেকেই অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ বিমানের টিকিট বিক্রয় লইয়া নানা অনিয়ম ও অভিযোগ থাকিবার পরও এই সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কার্যত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। অভিযোগটি আমলে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। করোনাকালে এই সমস্ত শ্রমিককে বিমান অফিসে কেন ভিড় করিতে হইবে? ইহা কি অ্যানালগ যুগের ব্যাকডেটেড প্রতিষ্ঠান? পানি ঘোলা করিয়া কেহ যদি অনিয়ম করিবার ফাঁদ পাতেন, তবে তাহাদের চিহ্নিত করিয়া শাস্তি প্রদান করা প্রয়োজন।