সিনহা হত্যা তদন্তে সমন্বয়হীনতা নেই

মেধা ও যোগ্যতার সমন্বয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার তদন্ত করছে র্যাব। এই তদন্তে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। সিনহা হত্যাকাণ্ড ব্যক্তি পর্যায়ের অপরাধ। এ নিয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি নেই। বরং ঘটনার মূল নির্ণয়ে পারস্পরিক সমন্বয় রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসব কথা বলেছেন র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

গতকাল সোমবার বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফে সিনহাকে গুলি করে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে র?্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কিছু বলছি না। আমরা এ ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য পাচ্ছি। এসব একটার সঙ্গে আরেকটা মেলাচ্ছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আমরা ফলাফল জানাতে পারব। তদন্ত ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।’ এ সময় র?্যাবের মিডিয়া শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ, কক্সবাজার র?্যাব-১৫-এর পরিচালক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

গতকাল রাত ৮টায় সৈকতের সী-গাল পয়েন্টে বালিয়াড়ির তীর ঘেঁষে গড়া সেনা কল্যাণ সংস্থার তারকা মানের অবকাশ ভবন ‘জলতরঙ্গে’ সংবাদ সম্মেলন করেন র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ। তিনি বলেন, ‘একজন চৌকস কর্মকর্তাকে সিনহা হত্যা মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে, যিনি ইতিমধ্যে সাত শতাধিক মামলার তদন্ত সুচারুরূপে শেষ করেছেন। এই মামলার অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সাবধানে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ঐ দিন ঘটনাস্থলে থাকা এপিবিএনের তিন সদস্যকে আমাদের কার্যালায়ে এনে জিজ্ঞাবাদ করা হয়েছে।’

আশিক বিল্লাহ বলেন, ইতিমধ্যে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সিফাত ও শিপ্রা জানিয়েছেন, তাদের ল্যাপটপসহ ২৯ ধরনের সরঞ্জাম ছিল, যেগুলো নিখোঁজ বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। কিন্তু রামু থানার পুলিশ জানিয়েছে, সেসব মালামাল জিডি মূলে জব্দ করে থানা হেফাজতে রেখেছে। এসব র?্যাবের তদন্তকারী দল হেফাজতে নিয়ে যাচাই করবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘শিপ্রা দেবনাথের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আপাতত এ ব্যাপারের আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।’

মামলার মূল অভিযুক্ত ওসি প্রদীপ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত ও অন্যজনকে কবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কোনো সময় বাকি তিন আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া হবে। মামলায় থাকা দুই আসামির নামের সঙ্গে পুলিশের কারো মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তারা দুজন পুলিশের কেউ নয় বলে মনে হচ্ছে।