বাঁধ ভেঙে পদ্মার পানি লোকালয়ে, ঝুঁকিতে সাত গ্রাম

পদ্মা নদীতে আবার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার শরীয়তপুরের সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপত্সীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। অথচ গত সপ্তাহে পদ্মার পানি বিপত্সীমার ১৪ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হয়েছিল। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতে ভাঙন বেড়েছে। এতে জাজিরার পদ্মা সেতুর কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড রক্ষা বাঁধের শেষ প্রান্তে জিরো পয়েন্ট এলাকা দিয়ে নদীর তীর ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। নতুন করে লোকালয়ে পানি ঢোকায় সাতটি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া গত এক মাসের ভাঙনে ঐ এলাকার চারটি গ্রামের সাড়ে ৩০০ পরিবার গৃহহীন হয়েছে। নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রামবাসী। ঐ স্থানের ৩০০ মিটার অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে বলে জানা গেছে।

শরীয়তপুর পাউবো সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগে ২০১০-১১ সালে জাজিরার নাওডোবা এলাকায় পদ্মা নদীতে ব্যাপক ভাঙন ছিল। ২০১২ সালে সেতু বিভাগ পূর্ব নাওডোবার ওকিল উদ্দিন মুন্সিকান্দি গ্রাম পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকা সিসি ব্লক দিয়ে ভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। বাঁধের শেষ প্রান্তে ওকিল উদ্দিন মুন্সিকান্দি এলাকা দিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে ঐ বাঁধের ৭০ মিটার সিসি ব্লক নদীতে ধসে গেছে। তার পাশ দিয়ে নদীর তীর ভেঙে ঐ স্থান দিয়ে পদ্মার পানি লোকালয়ে ঢুকছে।

সোমবার ঐ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরের ঐ স্থান দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। এতে ওকিল উদ্দিন মুন্সিকান্দি, আসলাম খারকান্দি, রুপাই খারকান্দি, হাজী ইয়াসিন মাদবরকান্দি, মমিন আলী ফরাজিকান্দি, পৈলান মোল্যারকান্দি ও ফেদুল্লা ব্যাপারীকান্দি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

জানতে চাইলে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশ্রাফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষা বাঁধের সিসি ব্লকের যে অংশ নদীতে ধসে গেছে তার পাশের গ্রামগুলোর বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। তাদের নগদ অর্থ ও খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে।

শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, পদ্মায় আবার পানি বাড়ছে। পদ্মা সেতু রক্ষা বাঁধের পাশে ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। আর ঐ এলাকার আড়াই কিলোমিটার অংশে স্থায়ী বাঁধ দেওয়ার জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।