প্রতিটি উপজেলায় রাজস্ব অফিস স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে একটি প্রকল্প গ্রহণ করতে বলেছেন তিনি। গতকাল সোমবার রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নিয়ে এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাত্, মাত্র ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতেও রাজস্ব আদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।
রাজস্ব আদায় বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন নতুন রাজস্ব কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যারা কর দিতে সক্ষম তাদের এর আওতায় নিয়ে আসা। এজন্য আইন সহজ করা হয়েছে। মাত্র এক পৃষ্ঠায় নিয়ে আসা হয়েছে রিটার্ন দাখিলের ফরম। আমরা মনে করি, সংস্কারমুখী কাজ করার কারণে করদাতা বাড়বে।’ তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশে শুধু টিন নম্বর (কর শনাক্তকরণ নম্বর) দিয়ে রিটার্ন জমা নেওয়া হয় না। আমদের দেশে করা হচ্ছে, এগুলো করা যাবে না। আমাদের যে পরিমাণ ট্যাক্স আদায় হওয়া উচিত, সেই পরিমাণ আদায় হচ্ছে না। যারা সক্ষম তাদের সবাইকে ট্যাক্সের আওতায় নিয়ে আসব। অটোমেশন হলে কেউ আর ট্যাক্স ফাঁকি দিতে পারবে না। এদেশের সাড়ে ৪ কোটি মানুষ মধ্যবিত্ত। তাদের ট্যাক্স দেওয়ার সামর্থ্য আছে। তাদের চিহ্নিত করে করের আওতায় আনতে হবে। যদি তারা না আসে, সেক্ষেত্রে এনবিআরকে কঠোর হতে হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম জানান, আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে ইএফডি (ইলেকট্রনিকস ফিসক্যাল ডিভাইস) স্থাপনের কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আদায় বাড়াতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা শুধু অটোমেশন নয়, বিভিন্ন রিফর্ম করছি। কীভাবে আরো কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় বাড়ানো যায়, সেই চেষ্টা করব।’
করোনা পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায় বাড়াতে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে যদি আমরা অর্থনীতি সচল পাই, সেক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ইতিমধ্যে জুলাই-আগস্ট মাসে রপ্তানি বেড়েছে।’ অর্থনীতির অন্য চলকগুলো যদি সচল থাকে, সেক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিপিডির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া :
রবিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। করোনার মধ্যেও গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের তথ্যে বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সিপিডি আন্দাজে কথা বলছে। এদেশের খালবিল, নদীনালা শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—সবকিছু দেখলেই বোঝা যাবে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে আমি যা বলেছি, সেটিই সঠিক হয়েছে। তাদের কাছে কোনো তথ্য আছে? তারা আন্দাজ করে কথা বলে। তারা কি আমাদের বিদ্যুত্ প্রকল্প দেখে না, মেগা প্রজেক্ট দেখে না?’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘৮ দশমিক ২ ভাগ প্রবৃদ্ধি দাবি করলে তারা প্রশ্ন তুলতে পারত। কিন্তু আমরা বলেছি ৫ দশমিক ২ শতাংশ। আমরা নিয়ম মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের যা অর্জন, সিপিডি যত নেগেটিভ বলবে ততই তাদের লাভ। আমাদের কোনো লাভ নাই। করণ গত ১০ বছর ধরেই আমি দেখেছি তারা এদেশে থেকে তথ্য জোগাড় করে বিদেশে এক্সপোর্ট করে।’