আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট আর ২১ আগস্ট এসব একইসূত্রে গাঁথা। সব হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড বিএনপি। সব হত্যা, সন্ত্রাস অভিন্ন ষড়যন্ত্রের অংশ। সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলার পেছনে বিএনপি সরকারের মদত থাকায় রাষ্ট্রযন্ত্র নীরব ছিল। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আর শেখ হাসিনার স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলায় কোনো ষড়যন্ত্রকারীর ঠাঁই নেই। প্রশ্রয়ও নেই কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তির। সব ষড়যন্ত্র মাড়িয়ে জনগণের ভালোবাসা এবং সমর্থন নিয়ে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে চলমান যাত্রা তা আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে অদম্য গতিতে, পৌঁছে যাবে অর্জনের সোনালী দিগন্তে। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিরিজ বোমা হামলার ১৫তম বার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, ২০০৫ সালের এ দিনে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) সারাদেশে একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালায়। এতে দুই জন নিহত অন্তত ৫০ জন আহত হয়। তখন বিএনপির হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার। সেদিন রাষ্ট্রযন্ত্র নীরব ছিল কেন? নিশ্চয়ই সরকার প্রশ্রয়দাতা আর পৃষ্ঠপোষক ছিল, তা না হলে কীভাবে এ দীর্ঘ প্রস্তুতি জঙ্গিরা নিল।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এদেশের রাজনীতিতে হত্যা, সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র আর সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার বিএনপির হাত ধরেই হয়েছে। সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি উগ্র সাম্প্রদায়িকতা আর জঙ্গিবাদকে এদেশে বিএনপিই প্রশ্রয় ও লালনপালন করে ক্যানসারে রূপান্তর করেছে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এখনো সুযোগ খুঁজছে। উন্নয়নবিরোধী অপশক্তি এখনো আছে চারপাশে। তারা দেশের উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়াকে মেনে নিতে পারছে না। তারা শান্তি ও স্বস্তির বাংলাদেশ চায় না। তারা এদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় নিয়ে যেতে চায়।
সেতুমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের খুনিদের বাঁচাতে যারা ইনডেমনিটি দিয়েছিল সেই বিচারহীনতার সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় আবারও ২০০৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে মানুষ হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি দিয়েছিল। তাদের মুখে মানবাধিকার ও হত্যার বিচারের কথা শোভা পায় না।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। ওবায়দুল কাদের নিজ সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন। এতে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।