অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু, ভুলনীতি পরিহার, দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধ ও মিলগুলো আধুনিকায়ন করা এবং শ্রমিকদের সব পাওনা মজুরি-বোনাস অবিলম্বে পরিশোধ করাসহ ১৪ দফা দাবিতে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে গতকাল সোমবার মহানগরীর খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পরে খালিশপুর পিপলস গোল চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা। এ সময় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, লোকসানের অজুহাতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করা হলো। অথচ এই লোকসানের জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসির কর্মকর্তাদের দুর্নীতি এবং পাটকল পরিচালনায় সরকারের ভুল নীতি। শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) পাটকলগুলো আধুনিকায়ন ও লাভজনক করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা করেছে। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করছে। এতে বোঝা যায়, সরকার লুটপাটকারীদের হাতে এসব পাটকলের ২৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ তুলে দিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, সারা বিশ্বে যখন পাটপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন আমাদের দেশের পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না। সমাবেশ থেকে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ২৪ আগস্ট নগরীর দৌলতপুর নতুন রাস্তার মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে।
সংগঠনের সদস্য সচিব এস এ রশীদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়কারী বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহেল ক্বাফী রতন, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন নান্নু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সরদার রইস উদ্দিন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা সত্যজিত্ বিশ্বাস, জনার্দন দত্ত নাণ্টু, এইচ এম শাহাদাত্, মিজানুর রহমান বাবু, আনিসুর রহমান মিঠু, মুনীর চৌধুরী সোহেল, সুভাষ সাহা, মোজাম্মেল হক, আব্দুল করিম, এস এম চন্দন, মনিরুল হক বাচ্চু, মোস্তাফা খালিদ খসরু, কোহিনুর আক্তার কণা, ক্রিসেন্ট জুট মিল সিবিএ সহসভাপতি আরমান আলী, জে জে আই জুট মিল সিবিএ সহসভাপতি নজরুল ইসলাম মল্লিক, প্লাটিনাম জুট মিল শ্রমিক নেতা নূরুল ইসলাম প্রমুখ।