রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে রামগতির বিস্তীর্ণ জনপদ। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙনের কবলে পড়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, বাজারসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বড়খেরী ইউনিয়নের কোরেশবাড়ি এলাকায় বিবিরহাট-রামগতিরহাট সড়কের অংশ মেঘনার ভাঙনে বিলীনের পথে রয়েছে। ভাঙন থেকে আলেকজান্ডার ইউনিয়নকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন এলাকাবাসী।
আলেকজান্ডার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা সুমন হাওলাদার জানান, সুজনগ্রামে ৩০ একর জমির ওপর ১০০ বছরের পুরোনো বাড়ি, মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। কয়েক দিনের ভাঙনে অন্তত দেড় হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়েছে।
উপজেলার আলেকজান্ডার ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বালুরচর, সুজনগ্রাম, জনতা বাজার ও মুন্সীর হাটসহ কয়েকটি এলাকায় মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়ে এরই মধ্যে সরকারি-বেসকারি বিভিন্ন স্থাপনাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে জনতা বাজার, মুন্সীর হাট বাংলাবাজার, বালুরচর উচ্চ বিদ্যালয়, বালুরচর সিনিয়র মাদ্রাসা, আলেকজান্ডার ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ও পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনা। ভাঙন রোধে এখনই যথাযথ উদ্যোগ না নেওয়া হলে অচিরেই এগুলো নদীতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, ভাঙন রোধে আলেকজান্ডার ইউনিয়নের সুজনগ্রামে ভাঙনকবলিত এলাকায় ২০০ মিটারের মধ্যে তিনটি স্পটে জিও টিউব ব্যাগে অস্থায়ী স্পার নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে আপত্কালীন বরাদ্দে এ কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া আসলপাড়া এলাকা থেকে উত্তর দিকে ৭০০ মিটার সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হবে।