করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের সকল অফিস-আদালতের কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা নামিয়া আসিয়াছে। পাসপোর্ট অফিসও তাহার ব্যতিক্রম নহে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগ শনাক্ত করা হয়। ইহার পর ২০ মার্চ হইতে পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ ও বিতরণ বন্ধ হইয়া যায়। রি-ইস্যু কার্যক্রম ধীর গতিতে চলিলেও ডেলিভারিতে বাড়ে ভোগান্তি। নির্দিষ্ট সময়ের দ্বিগুণ তিন গুণ সময় পার হইলেও অনেকে পাসপোর্ট ডেলিভারি পান নাই। এই সময় পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রমও বন্ধ হইয়া পড়ে। ফলে গত পাঁচ-ছয় মাস ধরিয়া পাসপোর্ট-প্রত্যাশীরা চরম বেকায়দায় রহিয়াছেন। বিশেষ করিয়া নূতন পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট-গ্রহীতার ছবি তোলা, ফিংগার প্রিন্ট ইত্যাদি বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করিতে হয়। করোনাকালে এই সকল কাজই সবচাইতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করিয়া বায়োমেট্রিক কাজে হাতের ব্যবহার বাড়ে, অথচ করোনা ভাইরাস মূলত হাত হইতেই অধিক ছড়ায়। এই জন্য নূতন পাসপোর্ট প্রদানের কাজ বন্ধ হইয়া যায়। আর রি-ইস্যু কাজে যেহেতু বায়োমেট্রিক দরকার হয় না, তাই তাহার কার্যক্রম সীমিত পরিসরে এখনো বজায় রহিয়াছে; কিন্তু নূতনভাবে যাহারা আবেদন করিতে চাহেন তাহারা আর কতদিন অপেক্ষায় বসিয়া থাকিবেন?
এদিকে করোনা আতঙ্কের মধ্যেই সম্প্রতি সরকারি-বেসরকারি সকল অফিসের কার্যক্রম শুরু হইয়াছে। রাজধানীসহ কোথাও কোথাও পরিলক্ষিত হইতেছে যানজটও। এই অবস্থায় সারা দেশের পাসপোর্ট অফিসগুলিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম কেন শুরু হইবে না? সকল প্রকার জরুরি নাগরিক সেবা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করিয়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকিতে হইবে। ইতিমধ্যে বিমান চলাচলও শুরু হইয়াছে। নিউ নরমালে মানুষের জীবনযাত্রার গতি আজ স্বাভাবিক হইয়া আসিতেছে বিধায় লক্ষ লক্ষ নূতন পাসপোর্ট-প্রত্যাশী অনিশ্চয়তার মধ্যে হাবুডুবু খাইতে পারেন না। শিগিগরই মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) বা ই-পাসপোর্টের নূতন আবেদন জমা নেওয়ার কাজ শুরু করা বাঞ্ছনীয়।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সূত্র মতে, স্বাভাবিক সময়ে সারা দেশে প্রতিদিন ১৮ হাজার হইতে ২০ হাজার পাসপোর্টের জন্য নূতন ও রি-ইস্যু আবেদন জমা পড়ে। এখন এই কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হইতে বঞ্চিত হইতেছে। যেহেতু নূতন আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ ও ছবি খুব নিকট হইতে গ্রহণ করিতে হয়, তাই আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবশ্যই ঝুঁকি ও জীবাণুমুক্ত হইয়া কাজ করিতে হইবে। এই জন্য উভয়কে মাস্ক, পিপিই, হ্যান্ড গ্লাভস ইত্যাদি পরিধান করিয়া সচেতনতার পরিচয় দিতে হইবে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হইতেছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ হইতে দেশের সকল পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিক হইয়া আসিতে পারে। তাহা যত দ্রুত সম্ভব করাই শ্রেয়। যাহারা কয়েক মাস ধরিয়া অপেক্ষার পরও এখনো পাসপোর্ট হাতে পান নাই, তাহাদের দুর্ভোগ নিরসনে গ্রহণ করিতে হইবে আন্তরিক উদ্যোগ। নূতন আবেদন জমা নেওয়া শুরু হইলে কাজের চাপ বাড়িবে স্বাভাবিকভাবেই। এই জন্য প্রয়োজনে অস্থায়ী ভিত্তিতে হইলেও জনবল সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করিতে হইবে।